স্ত্রী রান্না করছেন না বা গৃহস্থালির কাজ ঠিকমতো করছেন না—এই অভিযোগকে ‘নির্যাতন’ বলা যায় না। একটি বিবাহবিচ্ছেদ (divorce) মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

শেষ আপডেট: 20 March 2026 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রী রান্না করছেন না বা গৃহস্থালির কাজ ঠিকমতো করছেন না—এই অভিযোগকে ‘নির্যাতন’ বলা যায় না। একটি বিবাহবিচ্ছেদ (divorce) মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, সময় বদলেছে—সংসারের কাজকর্মে স্বামীকেও সমানভাবে অংশ নিতে হবে। ভাগেঝোগে সংসারের দায়িত্ব সামলানোই আধুনিক দাম্পত্য জীবনের শর্ত। শুধুমাত্র গৃহস্থালির দায়িত্ব পালন না করলে তাকে ‘নির্যাতন’ বা অত্যাচার বলে দাগিয়ে দেওয়া যায় না।
বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ শুনানির সময়ে সরাসরি বলেন, “আপনি কোনও গৃহপরিচারিকাকে বিয়ে করছেন না, আপনি একজন জীবনসঙ্গীকে বিয়ে করছেন।” বিচারপতি বিক্রম নাথ আরও যোগ করেন, “রান্না, কাপড় কাচা—এই সব কাজেও আপনাকে অংশ নিতে হবে। এখনকার সময় আলাদা।”
একটি বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এদিন সুপ্রিম কোর্টে এই প্রসঙ্গ ওঠে। ওই মামলায় ‘নির্যাতনের’ অভিযোগ তুলে ডিভোর্স চেয়েছেন স্বামী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্ত্রীর আচরণ বদলে যায়, তিনি অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করতেন এবং রান্না করতে চাইতেন না। এমনকি সন্তানের জন্মের সময় তাঁকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি বলে দাবি করেন স্বামী।
অন্যদিকে, স্ত্রীর পাল্টা দাবি, স্বামীর পরিবারের সম্মতিতেই তিনি সন্তানের জন্মের জন্য বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু সন্তান জন্মের পর স্বামী বা তাঁর পরিবার অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির তরফে নগদ টাকা ও সোনা দাবি করা হয়েছিল এবং তাঁকে নিজের বেতনের টাকাও দিয়ে দিতে চাপ দেওয়া হয়।
২০১৭ সালে বিয়ে হয়েছিল এই দম্পতির। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। প্রথমে ফ্যামিলি কোর্ট স্বামীর অভিযোগ মেনে নিয়ে ডিভোর্সের নির্দেশ দেয়। কিন্তু পরে হাইকোর্ট সেই রায় খারিজ করে দেয়। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন স্বামী।
শুনানির সময়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, সংসারের কাজকর্ম ভাগ করে নেওয়া আধুনিক দাম্পত্য জীবনের অংশ। শুধুমাত্র গৃহস্থালির দায়িত্ব পালন না করা ‘নির্যাতন’ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।
এর আগে এই মামলায় দুই পক্ষকে মধ্যস্থতার (মেডিয়েশন) জন্য পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। এবার আদালত নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী শুনানির দিন দু’পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।
এই পর্যবেক্ষণকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য শুধু আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, সমাজের পরিবর্তিত মানসিকতার প্রতিফলনও বটে—যেখানে বিবাহিত জীবনে সমান দায়িত্ববোধের উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।