নয়া আইনে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister of India) এবং তার মনোনীত একজন সিনিয়র মন্ত্রী (A senior minister of the cabinet selected by Prime Minister) ও লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে ( leader of the opposition in Lok Sabha) নিয়ে তৈরি একটি কমিটি নির্বাচন কমিশনের তিন পদাধিকারীকে নিয়োগের জন্য বাছাই করবে।

শেষ আপডেট: 20 March 2026 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) এবং নির্বাচন কমিশনারদের ((Election Commissioner) নিয়োগ সংক্রান্ত আইনটি চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থের মামলা শুনতে চাইল না প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ। বেঞ্চের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভিএম পাঞ্চালি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করতে ২০২৩ সালে নরেন্দ্র মোদীর সরকার সংসদে চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড ইলেকশন কমিশনার (অ্যাপয়েন্টমেন্টস, কন্ডিশনস অফ সার্ভিসেস এন্ড টার্মস অফ সার্ভিস), আইন ২০২৩ (The Chief Election and Commissioner and Election Commissioner appointments, conditions and services) সংসদে পাশ করে। ওই আইনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের নিয়ম চালু করে মোদী সরকার। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ তাঁর দুই সহকারী কমিশনারকে নতুন আইনে নিয়োগ করা হয়েছে।
নয়া আইনে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister of India) এবং তার মনোনীত একজন সিনিয়র মন্ত্রী (A senior minister of the cabinet selected by Prime Minister) ও লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে ( leader of the opposition in Lok Sabha) নিয়ে তৈরি একটি কমিটি নির্বাচন কমিশনের তিন পদাধিকারীকে নিয়োগের জন্য বাছাই করবে।
ওই আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের কাছে শতাধিক জনস্বার্থের মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাকারীদের বক্তব্য নির্বাচন কমিশনারদের মতো সাংবিধানিক পদে আসীন পদাধিকারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কখনও কেন্দ্রীয় সরকার শেষ কথা বলতে পারেনা। নরেন্দ্র মোদী সরকার যেভাবে আইন প্রণয়ন করেছে তাতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
প্রসঙ্গত ওই আইন তৈরির প্রয়োজন হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রেক্ষিতে। ২০২২ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এক রায় বলেছিল প্রধানমন্ত্রী, সংসদের বিরোধী দলনেতা এবং সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত কমিটি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ শীর্ষ আদালত এই তিন পদাধিকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের শেষ কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়কে খারিজ করতে মোদি সরকার ২০২৩ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করে।
শুক্রবার সেই আইনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জনস্বার্থের মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন যেহেতু এই মামলাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে তাই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তিনি মনে করেন মামলাটি অন্য কোন বিচারপতির যাওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন এই মামলা সেই বিচারপতিদের বিচার করা উচিত যাদের প্রধান বিচারপতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। প্রধান বিচারপতি বলেন কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট বা স্বার্থের সংঘাত এড়াতেই তিনি মামলাটি তাঁর এজলাসে রাখতে চাইলেন না।
অন্যতম মামলাকারী আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের এই যুক্তি মেনে নেন। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়েছে মামলাটি আগামী ৭ এপ্রিল অন্য কোন বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চে উঠবে, যে বেঞ্চের কোন সদস্যের প্রধান বিচারপতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।