রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য একেবারেই বাজার ও পারস্পরিক স্বার্থের উপর ভিত্তি করে।

রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার
শেষ আপডেট: 25 August 2025 07:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া ছাড়াও যেখান থেকে সবচেয়ে ভাল দামে তেল পাবে, ভারত সেখান থেকেই কিনবে। রবিবার সাফ জানালেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার। তাঁর বক্তব্য, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিনয় কুমার বলেন, 'ভারতের তেল কেনাবেচা পুরোপুরি বাণিজ্যিক কারণে হয়। ভারতীয় সংস্থাগুলি যেখান থেকে ভাল দামে তেল পাবে, সেখান থেকেই কিনবে। আমাদের উদ্দেশ্য ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আর রাশিয়া-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতেও সাহায্য করেছে।'
মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনার মুখেই রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য সামনে এল। ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, রাশিয়া থেকে ছাড়ের দামে তেল কিনে মস্কোর ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থ জোগাচ্ছে দিল্লি। তবে শুরু থেকেই ভারত এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। বরং মার্কিন সিদ্ধান্তকেই 'অন্যায্য, অবিচারসুলভ এবং অযৌক্তিক' বলে পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিনয় কুমার। তিনি বলেন, 'ভারত সরকার দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য যা যা পদক্ষেপ করা দরকার, তাই করবে।'
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক দ্বিগুণ করেছে। প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য বাড়তি ২৫ শতাংশ করও ধার্য করা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য একেবারেই বাজার ও পারস্পরিক স্বার্থের উপর ভিত্তি করে। তাঁর কথায়, 'ভারত কেবল রাশিয়ার সঙ্গেই নয়, আরও নানা দেশের সঙ্গেই এইভাবে লেনদেন করে থাকে। এমনকি আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলিও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে।'
এই প্রেক্ষিতেই শনিবার দিল্লিতে প্রশ্নোত্তরে মুখ খোলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মার্কিন সমালোচনার জবাবে তাঁর মন্তব্য, প্রো-বিজনেস বলে পরিচিত মার্কিন প্রশাসনের লোকেরা অন্যকে ব্যবসা করার জন্য দোষ দিচ্ছে, এটা সত্যিই কৌতূহলজনক! যদি ভারতের কাছ থেকে তেল বা তেলজাত পণ্য কিনতে সমস্যা থাকে, তবে কিনবেন না। কেউ তো জোর করছে না। কিন্তু ইউরোপ কিনছে, আমেরিকা কিনছে। আপনারা পছন্দ না করলে কিনবেন না।
এই নিয়ে এখনও কোনও পাল্টা মন্তব্য আসেনি। তবে, কূটনীতিকরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে এই দৃঢ় বার্তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।