২০১৬ সালে নিক্কির (Nikki Bhati) দাদা রোহিতের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। অভিযোগ, বিয়ের সময় তাঁর পরিবার একটি মারুতি সুজুকি সিয়াজ গাড়ি পণ হিসেবে দেয়।
_0.jpg.webp)
বিস্ফোরক নিক্কির বৌদি
শেষ আপডেট: 27 August 2025 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ডার বহুল আলোচিত নিক্কি ভাটি পণ-মৃত্যু মামলায় নতুন এক নাটকীয় মোড় (Nikki Dowry Case)। মৃতার পরিবার জামাই ও মেয়ের শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে পণের অভিযোগ তুললেও, এবার পণ নিয়ে কাঠগড়ায় নিক্কির নিজের পরিবারই। মুখ খুললেন নিক্কির বৌদি মীনাক্ষী (Noida Dowry Case)।
মীনাক্ষীর বাড়ি পল্লা গ্রামে। ২০১৬ সালে নিক্কির (Nikki Bhati) দাদা রোহিতের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। অভিযোগ, বিয়ের সময় তাঁর পরিবার একটি মারুতি সুজুকি সিয়াজ গাড়ি পণ হিসেবে দেয়। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকেরা (নিক্কির পরিবার) গাড়িটিকে 'অশুভ' বলে বিক্রি করে দেয়। এরপর তাঁরা নতুন মডেলের একটি স্করপিও গাড়ি ও নগদ টাকার দাবি জানায়। কিন্তু সেই দাবি মেনে না নেওয়ায় মীনাক্ষীকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে স্বামী-শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকছেন মীনাক্ষী।
জানা গেছে, বিষয়টি গ্রামের পঞ্চায়েতে ওঠে। সেখানে প্রস্তাব দেওয়া হয়, হয় নিক্কির পরিবার ৩৫ লক্ষ টাকা (যত টাকা বিয়েতে খরচ হয়েছিল) ফিরিয়ে দেবে মীনাক্ষীর পরিবারকে, যাতে তিনি আবার বিয়ে করতে পারেন, অথবা তাঁকে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু তারপরও সমস্যা মেটেনি। মীনাক্ষীর অভিযোগ, নিক্কির বাবা ভিখারি সিং পায়লা ও তাঁর পরিবার তাঁকে কখনওই মেনে নেননি।
রোহিতের কাছে তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, 'আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। এগুলো শুধুই অভিযোগ।' তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আরেকজন দাবি করেন, 'এই বিতর্ক এতটাই বেড়েছিল যে দু’পক্ষ একে অপরের দিকে বন্দুক তাক করে ফেলেছিল।' তিনি আরও বলেন, 'প্রতিটি বাড়িতেই ঝগড়া হয়। অন্তত আমরা মেয়েটিকে পুড়িয়ে মারিনি।'
নিক্কির ধৃত শ্বশুর সত্যবীর সিং, তিনি নাকি মীনাক্ষীর বাবাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জোরে তিনি ভিখারি সিং পায়লাকে টাকা ফেরত দিতে রাজি করাবেন। এমনকি তিনি একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে।
গত সপ্তাহে ২৬ বছরের নিক্কি ভাটিকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পুড়িয়ে মারে বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি পণের চাহিদার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী ছিল তাঁর সাত বছরের ছেলে ও জা (সম্পর্কে দিদি-ও)। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, আগুনে ঝলসে যাওয়ার পরও নিক্কি সিঁড়ি বেয়ে নামছেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগেও নিক্কির পরিবার পণ প্রথাকে সমর্থন করেছে বলে জানা যায়। নিক্কির বাবা, যিনি মেয়েদের বিয়ের সময় দুই জামাইকে স্করপিও গাড়ি, নগদ টাকা ও সোনা দিয়েছিলেন, তিনি নিজেই প্রকাশ্যে বলেছিলেন, 'আমাদের সমাজে এভাবেই বিয়ে হয়।' তবে মীনাক্ষীর এই নতুন অভিযোগে নিক্কি ভাটির মৃত্যু-তদন্তে আরও এক নতুন দিক যোগ হয়েছে। দেশে আইনত পণ নিষিদ্ধ হলেও কেন এমন ঘটনা এত বছর ধরে চলেছে, সেই প্রশ্নও উঠছে।