তদন্তে নজরে আসে একটি বাস, যার হেডলাইট নিভিয়ে ৫ নভেম্বর রাতেই অপরাধস্থলের কাছে ঘোরাঘুরি করছিল। ওই বাসের হদিস ধরেই গ্রেফতার করে পুলিশ।

শেষ আপডেট: 16 November 2025 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬ সেপ্টেম্বরের সকালে নয়ডার রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড (Noida murder) চমকে দিয়েছিল এলাকাবাসীদের। সেক্টর–৩৯ থানার এলাকার একটি ড্রেন থেকে উদ্ধার হয় এক মহিলা মুণ্ডহীন দেহ (Noida Headless body case)। সেই ঘটনায় গ্রেফতার করা হল মনু সিং ওরফে মনু সোলাঙ্কিকে। বয়স ৩৪।
অভিযুক্ত পেশায় এক বাসচালক এবং বিবাহিতও। দুই মেয়েও আছে তার। মৃতা প্রীতি যাদবের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সেই প্রেমিকাকে খুন করে দেহ খণ্ড খণ্ড করে নয়ডা ও গাজিয়াবাদের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। সে নয়ডার বারোলা এলাকায় পরিবার-সহ থাকত। প্রেমিকা প্রীতি যাদবও একই এলাকায় থাকতেন।
যমুনা প্রসাদ, ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি), এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মনু দাবি করেছে যে প্রীতি তার কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করতেন। শুধু তাই নয়, তিনি প্রায়ই হুমকি দিতেন যে, কোনও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন, এমনকী মনুর দুই মেয়েকে জড়িয়ে দিতেও পারেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ৫ নভেম্বর রাতে ঘটনার সূত্রপাত। মনু প্রীতিকে তাঁর বাসে নিয়ে আসে। তার আগে প্রীতির বাড়ি থেকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসেছিল, তবে বিষয়টি প্রীতি বুঝতে পারেনি। খাবার খাওয়ার পর দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। মনুর দাবি, সেই সময়ই সে প্রেমিকাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দেয় এবং হাত দু’টিও কেটে নেয় যাতে পরিচয় লুকানো যায়।
এরপর ধড়টি নয়ডার একটি নর্দমায় ফেলে দেয়। হাত, মাথা এবং সেই অস্ত্র নিয়ে যায় গাজিয়াবাদের সিদ্ধার্থ বিহারের কাছে একটি শুকনো নর্দমায় এবং সেখানেই ফেলে দেয়। পুলিশের দাবি, বাস থেকে উদ্ধার করা সামগ্রী ও বাসের ভেতরের ফরেন্সিক পরীক্ষা সবেতেই পাওয়া গিয়েছে রক্তের চিহ্ন।
কীভাবে মিলল দেহ?
৬ নভেম্বর নয়ডার সেক্টর–৩৯ থানার এলাকার একটি ড্রেন থেকে প্রীতির দেহের ধড় উদ্ধার হয়। পরিচয় জানার মতো একমাত্র সূত্র ছিল তাঁর পায়ের আংটি (toe rings)। এরপরই শুরু হয় বিশাল তদন্ত।
ডিসিপি প্রসাদ জানান, মোট ৯টি পুলিশ দলের তদন্তে স্ক্যান করা হয় ৫ হাজারেরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। খতিয়ে দেখা হয় ১,১০০ গাড়ি। সেখান থেকে ৪৪টি সন্দেহভাজন গাড়িকে চিহ্নিত করে জেরা করা হয় মালিক ও চালকদের।
এমনই তদন্তের মাঝে নজরে আসে একটি সাদা-নীল বাস, যার হেডলাইট নিভিয়ে ৫ নভেম্বর রাতেই অপরাধস্থলের কাছে ঘোরাঘুরি করছিল। ওই বাসের হদিস ধরেই পুলিশ পৌঁছে যায় সিংয়ের কাছে।
মনুর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির নানা ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। রয়েছে আরও কয়েকটি আইনি পদক্ষেপ। তদন্ত এখনও চলছে।