এই ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেই, ১১ নভেম্বর ছত্তীসগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হয়েছিল আরও ছ’জন কুখ্যাত মাওবাদী।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 November 2025 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড়ের সুকমা জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হল তিন মাওবাদীর (Naxals Killed during encounter)। প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা করে, রবিবার জানালেন আধিকারিকরা। ঘটনাটি ঘটেছে তুমালপাড় গ্রামের কাছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইজি বস্তার পি সুন্দররাজ।
পরে সুকমা (Sukma Police) পুলিশ জানায়, মৃতদের মধ্যে রয়েছে মিলিশিয়া কমান্ডার ও স্নাইপার বিশেষজ্ঞ মাড়ভি দেবা। পাশাপাশি দুই মহিলা মাওবাদী, পোডিয়াম গঙ্গি ও সোড়ি গঙ্গিরও মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) উদ্ধার করেছে একটি ৩০৩ রাইফেল, বিসিজিএল লঞ্চার এবং একাধিক গুলি। এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে। আরও কেউ লুকিয়ে আছে কি না তা দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেই, ১১ নভেম্বর ছত্তীসগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হয়েছিল আরও ছ’জন কুখ্যাত মাওবাদী। তাদের মধ্যে ছিলেন উর্মিলা, সিনিয়র অপারেটিভ এবং বচন্না কুডিয়াম। ছ’জনের মোট মাথার দাম ছিল ২৭ লক্ষ টাকা। বিজাপুরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ জিতেন্দ্র যাদব সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ইন্দ্রাবতী ন্যাশনাল পার্ক এলাকার কন্দুলনর ও কাচলারাম গ্রামের জঙ্গলে মুখোমুখি হয় নিরাপত্তাবাহিনীর দল।
বচন্না ওরফে কন্না (৩৫) গত এক দশকে একাধিক নকশাল হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিল, পুলিশ, সাধারণ মানুষ, এমনকি উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকেও নিশানা করেছিল সে। অন্যদিকে, উর্মিলা ছিল পিএলজিএ (পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি)-র ব্যাটালিয়নের লজিস্টিক সাপোর্টের মূল দায়িত্বে।
ডিআরজি (বিজাপুর ও দান্তেওয়াড়া) এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথভাবে ওই এলাকায় যান, গোপন সূত্রে খবর আসে সংশ্লিষ্ট মাওবাদী নেতাদের উপস্থিতির। বচন্না ২০০৮ সালের কংগুপল্লি পুলিশ পোস্ট হামলা এবং ২০১৬ সালের নুকনারপাল ক্যাম্প হামলারও অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিল। সময়মতো পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে ওই হামলাগুলি আরও বড় আকার নিতে পারত।
এসপি যাদব বলেন, “গ্রামবাসীদের পুলিশ-বহির্ভূত খবরদাতা বলে সন্দেহ করে ২০ জনেরও বেশি মানুষকে খুনের অভিযোগ রয়েছে বচন্নার বিরুদ্ধে। ছ’টি আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে সে, জ্বালিয়ে দিয়েছে গাড়ি ও মোবাইল টাওয়ার। ওর মৃত্যু মানে এই অঞ্চলে মাওবাদী সন্ত্রাসের এক দীর্ঘ এবং ভয়ঙ্কর অধ্যায়ের ইতি।”
ছত্তীসগড় নকশালপন্থীদের বিচরণক্ষেত্র। একাধিক বড় বড় অপারেশন তাঁরা এখান থেকেই চালিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নকশাল দমনের চেষ্টা করেও সেভাবে সফল হয়নি কোনও প্রশাসন। তবে, গেরুয়া শিবির ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এসব ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলছে, প্রতি মাসেই কম-বেশি নকশাল দমনের খবর আসছে। অনেকে এসব দেখে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন কিন্তু তারপরও পুরোপুরি এদের বাগে আনা যায়নি। প্রতিদিনই মাওবাদী অধ্যুসিত এলাকাগুলিতে অভিযান চলছে।