এখন অন্য এক জীবনের পথিকৃত ধনঞ্জয়। প্রতিদিন ব্লাড ব্যাঙ্কের দায়িত্বে থাকেন তিনি, রোজ চলে মানুষ বাঁচানোর কাজ।

ধনঞ্জয় গোপ (সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 29 October 2025 22:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মারপিট, গুলি, বোমা, বারুদ, গা ঢাকা দিয়ে থাকা জীবন পেরিয়ে মূল স্রোতে ফিরেছিলেন অনেকদিন আগে। প্রতীক্ষা করেছিলেন, সেসব কাজ আর করবেন না। মন দিয়ে সত্যিই মানুষের জন্য খাটবেন। সেই লক্ষ্যে আজ অনেকটাই সফল এককালের মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতা ধনঞ্জয় গোপ।
ওড়িশার মলকনগিরির ধনঞ্জয় (ছদ্মনাম সুধীর) আজ রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত। একসময় তাঁর মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা, সেই ধনঞ্জয় এখন মলকানগিরি ব্লাড ব্যাঙ্কে নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, যে সমাজের বিরুদ্ধে একদা অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন, আজ সেই সমাজেরই সুরক্ষা তাঁর হাতে।
ছয় বছর আগে, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোরাপুট পুলিশ প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। প্রায় ১৪-১৫ বছর সক্রিয় থাকার পর বন্দুক নামিয়ে শান্তির পথ বেছে নেন। গুম্মা এরিয়া কমিটির ডিভিশনাল কমিটি মেম্বার (ডিসিএম) হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, পাশাপাশি ২০০৯ সালে কালিমেলা অঞ্চলেও ছিলেন বেশ সক্রিয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ছিল সেসময়। দক্ষিণ-পশ্চিম রেঞ্জের ডিআইজি হিমাংশু লালের সামনে আত্মসমর্পণ করেন এই প্রাক্তন রেড রেবেল।
এখন অন্য এক জীবনের পথিকৃত ধনঞ্জয়। প্রতিদিন ব্লাড ব্যাঙ্কের দায়িত্বে থাকেন তিনি, যেখানে মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ চলছে, সেখানে তাঁর ভূমিকা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ধনঞ্জয়ের মতোই আরও এক প্রাক্তন মাওবাদী রামা মাদকামি (ছদ্মনাম দীনেশ)-ও আজ জীবনের নতুন পথে। ২০১৫ সালে বালিমেলা এলাকার এই মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেন। মলকনগিরি-কোরাপুট বর্ডার ডিভিশন (এমকেবিডি)-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। বর্তমানে মলকনগিরি হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করছেন।
দু’জনেই এখন সাধারণ জীবনের শান্তি উপভোগ করছেন। তাঁদের কথায়, “মূলস্রোতে ফিরে জীবনটা বদলে গেছে। বন্দুক নয়, এখন নিরাপত্তা দেওয়াই লক্ষ্য।”