বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানায়, “আদালতের আদেশের প্রতি কোনও সম্মান দেখা যাচ্ছে না। তাই মুখ্যসচিবদের নিজে আসতে হবে।”

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 31 October 2025 14:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও রাজ্যগুলির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, অবাধে বেড়ে চলা পথকুকুরের (Stray Dogs) সমস্যা রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রেহাই নেই রাজ্যগুলির। আগামী ৩ নভেম্বর সব রাজ্যের মুখ্যসচিবদের ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজিরা দিতে হবে, ভার্চুয়াল নয়, সরাসরি উপস্থিত থাকতে হবে।
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানায়, “আদালতের আদেশের প্রতি কোনও সম্মান দেখা যাচ্ছে না। তাই মুখ্যসচিবদের নিজে আসতে হবে।”
এর আগেই আদালত ২২ অগস্ট নির্দেশ দিয়েছিল, পশুজনন নিয়ন্ত্রণ (Animal Birth Control) বিধির আওতায় রাজ্যগুলি কী ব্যবস্থা নিয়েছে তার বিস্তারিত তথ্যপত্র পেশ করতে। কিন্তু একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সময়মতো তা দেয়নি।
বিহার সরকার মুখ্যসচিবকে ছাড় দেওয়ার আবেদন জানায়, কারণ রাজ্যে নভেম্বরের ৬ ও ১১ তারিখে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু আদালত তাতে রাজি হয়নি। বিচারপতির মন্তব্য, “নির্বাচন কমিশন আছে, তারা দেখবে। মুখ্যসচিবকে হাজিরা দিতেই হবে।”
এর আগে ২৭ অক্টোবরও আদালত সতর্ক করেছিল, পথকুকুরের হামলার ঘটনা ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। তাই এবারও আদালতের বার্তা কঠোর। সব রাজ্যকে দায় নিতে হবে, দেরি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ চাই।
গত ২৮ জুলাই আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলা নেয়, দেশের নানা প্রান্তে শিশুদের উপর কুকুরের আক্রমণ ও রেবিস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায়। পশ্চিমবঙ্গ ও তেলঙ্গানা বাদে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবদের হাজিরার নির্দেশই এখন কেন্দ্রীয় নজরকাড়া বিষয়।
দিল্লিতে একের পর এক পথকুকুরের কামড়ের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা শোনে সুপ্রিম কোর্ট। প্রথমে দিল্লির রাস্তা থেকে সমস্ত পথকুকুরকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পরে তা পরিবর্তন করে বন্ধ্যাত্বকরণে জোর দেওয়া হয়। ৩ নভেম্বর রাজ্যগুলিকে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে।
ইদানিং দেশজুড়ে রাস্তার কুকুরের সমস্যা বড় আকার নিয়েছে। বহু জায়গায় শিশুদের উপর কুকুরের হামলার খবর আসছে। পশুপ্রেমীরাও আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত। তাঁরা বলছেন, রাস্তার কুকুর ভালবাসলে, তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি কখনই কাম্য নয়। এর জন্য প্রতিটি কুকুরের নির্বীজকরণ করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে ছাড়া যা সম্ভব নয়। কারণ এর খরচ কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষে টানা মুশকিল। এবার এই বিষয়ে রাজ্য সরকারগুলি কী উদ্যোগ নেয়, এখন সেটাই দেখার।