বেওয়ারিশ কুকুরের জন্য পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি (২০২৩) প্রয়োগের ব্যাপারে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির পশুপালন দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট জমা না পড়ায় একসঙ্গে সকলকে দুষেছে শীর্ষ আদালত।

বেঞ্চ উল্লেখ করেছে, তেলঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লি পুরসভা শুধু রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
শেষ আপডেট: 27 October 2025 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথকুকুর নিয়ে রাজ্যগুলিকে সোমবার তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বেওয়ারিশ কুকুরের জন্য পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি (২০২৩) প্রয়োগের ব্যাপারে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির পশুপালন দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট জমা না পড়ায় একসঙ্গে সকলকে দুষেছে শীর্ষ আদালত। শীর্ষ আমলাদের সতর্ক করে সর্বোচ্চ আদালত সাবধান করে দিয়ে বলেছে যে, পথকুকুর প্রসঙ্গে ভীতি দূর করে মানুষের জীবন সুরক্ষিত করার কাজে নিষ্ক্রিয়তার জন্য তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে দায় নিতে হবে।
বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও এনভি আঞ্জারিয়াকে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মুখ্যসচিবদের ৩ নভেম্বরের আগে হলফনামা জমা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে কেন অনেক সময় দেওয়া সত্ত্বেও এতদিনেও হলফনামা জমা দেওয়া যায়নি, তারও ব্যাখ্যা চেয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
বেঞ্চ উল্লেখ করেছে, তেলঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লি পুরসভা শুধু রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এই দুই রাজ্যের মুখ্যসচিবদের ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে ছাড় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, দিল্লির মুখ্যসচিবকেও ব্যক্তিগত হাজিরা দিতে হবে ৩ নভেম্বর। কেননা, দিল্লি পুরসভার রিপোর্টই তাঁদের কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। আদালতের সাফ কথা, আগামী ৩ নভেম্বর সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের হাজিরা দিতে হবে।
আদালতের সামনে তাঁদের বলতে হবে, কেন অনেক সময় দেওয়া সত্ত্বেও এদিন পর্যন্ত পদক্ষেপের বিষয়ে কোনও রিপোর্ট জমা পড়েনি। তীব্র অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আদালত বলে, অগস্ট মাসে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য তিনমান সময় দেওয়া হয়েছিল। পথকুকুরদের নির্বীজকরণ ও জলাতঙ্ক নিরোধী কর্মসূচি নিয়ে কী পদক্ষেপ হচ্ছে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। বিধি অনুযায়ী, কুকুর ধরা, নির্বীজকরণ, টিকাকরণ ও ছেড়ে দেওয়ার মডেল অনুসরণ করতে বলে আদালত। বিচারপতি নাথ বলেন, তিন মাস কেটে গেলেও কিছুই রেকর্ডে আসেনি। অথচ দেশে কুকুরে কামড়ানো এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে আমাদের দেশকে খারাপ চোখে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশ না মেনে চলার ফল ভোগ করতে হতে পারে, কারণ বেঞ্চ তা করতে দ্বিধা করবে না। বেঞ্চ বলেছে, আমাদের নির্দেশ সব সংবাদপত্র ও অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে ফলাও করে ছাপা হয়েছে। রাজ্যের আধিকারিকরা কি খবরের কাগজ পড়েন না, নাকি সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করেন না?
এদিনের শুনানিতে এক আইনজীবী আদালতের সামনে পশুদের উপর নৃশংসতার প্রসঙ্গ উত্থাপন করতেই বেঞ্চ জোরালোভাবে পাল্ট জবাব দেয়। মানুষের উপর নৃশংসতা নিয়ে আপনার মত কী? আদালত পশুকল্যাণ ও জনসুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার উপর জোর দিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৩ নভেম্বর।