শুধু কংগ্রেস কেন, জোটের প্রধান শরিক রাষ্ট্রীয় জনতা দলের বর্তমান সেনাপতি তেজস্বী যাদবের ভিতরেও কংগ্রেস নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়ে গিয়েছে।
_0.jpeg.webp)
গত ২০ অক্টোবর রাহুল গান্ধী পুরনো দিল্লির ঘন্টেওয়ালা সুইটস শপে ‘ইমারতি’ মিষ্টি বানাচ্ছেন দেওয়ালি উৎসব পালন করতে।
শেষ আপডেট: 27 October 2025 10:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল গান্ধী কই? বিহারে ভোটের দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে, ততই বিরোধী জোটের অন্যতম শরিক কংগ্রেসের ভিতরে এই প্রশ্নটিই জোরাল হয়ে উঠছে। শুধু কংগ্রেস কেন, জোটের প্রধান শরিক রাষ্ট্রীয় জনতা দলের বর্তমান সেনাপতি তেজস্বী যাদবের ভিতরেও কংগ্রেস নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়ে গিয়েছে। তাহলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল কোন তাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মনস্থ করছেন, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, রাহুল গান্ধী শেষবার বিহারে গিয়েছিলেন ১ সেপ্টেম্বর। তারপর বিহার বিধানসভা ভোট ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির তাবড় নেতৃত্ব চষে ফেলছেন বিহার। কিন্তু, সেখানে রাহুলের গরহাজিরায় নানান মুনির নানান মত ভেসে বেড়াচ্ছে।
বিহার বিধানসভা ভোটে মহাগাঁটবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হয়েছেন আরজেডি তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। এমনকী বিরোধী জোটের অন্যতম বড় শরিক কংগ্রেস হওয়া সত্ত্বেও ক্ষুদ্র শরিক বিকাশশীল ইনসান পার্টির নেতাকে উপমুখ্যমন্ত্রী মুখ করছে বিজেপি বিরোধীরা। তাহলে এই জোটে কংগ্রেসের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছে। এই অবস্থায় কংগ্রেস দলের প্রধান মুখ রাহুল গান্ধীর প্রচারে না আসাটাকে অনেকেই ভাল চোখে মেনে নিতে পারছেন না।
ভোটার অধিকার যাত্রার শেষদিনে বিহারে রাহুল ভাষণ দিয়েছেন গত ১ সেপ্টেম্বর। তারপর থেকেই লাপাতা রাহুল। ২৪৩টি আসনের বিধানসভায় আরজেডি লড়ছে ১৪৩টিতে এবং কংগ্রেস লড়াই করছে ৬১টি আসনে। এই অবস্থায় নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগেও প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল রাজ্যের মাটিতে প্রচারে আসেননি।
রাহুল গান্ধীর এই প্রচার অনীহায় দলের ভিতরেই আশাক্ষীণতা গড়ে তুলেছে। এমনিতেই দলের সদর দফতর সদাকান্ত আশ্রমে টিকিট বিলি নিয়ে টাকাপয়সার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। দলীয় কার্যালয়ের ভিতরেই কংগ্রেসের একাংশ টিকিট বিলিতে নয়ছয়ের অভিযোগে ধরনায় বসেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রাক্তন বিধায়কও ছিলেন। বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতারা বিহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কৃষ্ণ আল্লাবারুর অপসারণ দাবি করছেন। তাঁরা প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছেন যে, এই লোকটি আসলে কর্পোরেট এজেন্ট এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের স্লিপার সেন। বিক্ষুব্ধরা ‘টিকিট চোর, বিহার ছোড়’ স্লোগানও দেন।
শুধু রাহুল গান্ধীর জন্যই বিহারে কংগ্রেসের সেভাবে প্রচার ঝড় এখনও ওঠেনি। কিষাণগঞ্জের এক কংগ্রেস কর্মীর প্রশ্ন, মানুষ জানতে চাইছেন ভোটাধিকার নিয়ে হাওয়া তুলে দিয়ে রাহুল গান্ধী এখন শেষ মুহূর্তে কোথায়? আমরা ভোটারদের কী বোঝাব? গান্ধী পরিবারের মুখ ছাড়া ভোটারদের কীভাবে কংগ্রেসকে ভোট দিতে বলা যায়? এক কংগ্রেস কর্মী বলেন, বুড়ো বয়সে নীতীশ কুমারও কয়েক ডজন সভা করে ফেলেছেন। আর সেখানে গত ২০ অক্টোবর রাহুল গান্ধী পুরনো দিল্লির ঘন্টেওয়ালা সুইটস শপে ‘ইমারতি’ মিষ্টি বানাচ্ছেন দেওয়ালি উৎসব পালন করতে?
এ ব্যাপারে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কেসি বেণুগোপাল জানান, দলের ভোট প্রচার শুরু হবে ছট পুজোর ঠিক পরেই। রাহুল গান্ধীই সেই প্রচারের নেতৃত্ব দেবেন। কারণ, গত লোকসভা ভোটে কংগ্রেস বিহার থেকে তিনটি আসনে জিতেছিল। তার মধ্যে দুটি হল- কিষাণগঞ্জ ও কাটিহার। দুটিই বাংলা সীমান্ত লাগোয়া সীমাঞ্চলের মধ্যে পড়ে, যেগুলির ভোট রয়েছে ১১ নভেম্বর, দ্বিতীয় অর্থাৎ শেষ দফায়। বেণুগোপাল জানান, রাহুল ছাড়াও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা ও দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও বিহারে প্রচারে যাবেন।