নিয়াল হার্বিসন জানান, দিল্লির স্থানীয় মানুষ, যাঁরা নিয়ম করে পথকুকুরদের খেতে দেন, তাঁরা প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছেন।

শেষ আপডেট: 29 August 2025 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে প্রায় ১০ লক্ষ পথকুকুর মারাত্মক বিপদের মুখে - এমনই দাবি করেছেন আয়ারল্যান্ডের প্রাণী রক্ষক ও লেখক নিয়াল হার্বিসন। তিনি The Happy Doggo নামক একটি থাইল্যান্ডের সংস্থার (যারা পথকুকুরদের নিয়ে কাজ করে) প্রতিষ্ঠাতা। দিল্লি সফরে এসে তিনি যে দৃশ্য দেখেছেন, সেটিকে আধুনিক পৃথিবীতে ‘অকল্পনীয়’ বলেই বর্ণনা করেছেন।
হার্বিসন এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ একটি থ্রেডে অভিযোগ করেছেন, কুকুরদের উপর অমানবিক নির্যাতন, অবহেলা, এমনকী যাঁরা তাদের খাওয়ান ও রক্ষা করেন, তাঁদের উপরও হিংসা চলছে।
তিনি জানিয়েছেন, রোহিনির একটি শেল্টার দেখতে গিয়ে তাঁর মনে হয়েছিল যেন এটি একটি ‘টর্চার চেম্বার’ আর ছাড়া কিছু নয়। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ, ফ্যান বা খাবার ছাড়াই কুকুরগুলোকে আটকে রাখা হয়েছিল কড়া পুলিশি পাহারায়। হার্বিসন লিখেছেন “ওদের ওই কান্নার শব্দ আমি কোনওদিন ভুলব না।”
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন, ওই শেল্টারের কাছেই নাকি গণকবর দেওয়া কুকুরের দেহ পাওয়া গেছে।
I spent the weekend in Delhi, India.
1 million street dogs are under severe threat.
I’ve never seen a story like this. I didn’t think it was possible in the modern world.
The world needs to see this… (1/10) 🧵 pic.twitter.com/Fqlvxp3lml— Niall Harbison (@NiallHarbison) August 27, 2025
প্রসঙ্গত, দিল্লির পথকুকুরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনগত লড়াইও চরমে উঠেছে। চলতি মাসের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট আগের নির্দেশ পাল্টে জানায়, নির্বীজ হওয়া ও টিকাপ্রাপ্ত কুকুরদের আবার তাদের এলাকায় ছেড়ে দিতে হবে। শুধু আগ্রাসী বা জলাতঙ্কগ্রস্ত কুকুরদেরই শেল্টারে রাখা যাবে। একই সঙ্গে আদালত কমিউনিটি কুকুরদের জন্য নির্দিষ্ট খাওয়ানোর জায়গা তৈরির নির্দেশও দেয়।
হার্বিসন জানিয়েছেন, তিনি দেখেছেন পুলিশ কীভাবে বিক্ষোভকারীদের উপর বলপ্রয়োগ করেছে। চারদিনের আন্দোলনের পর অবশেষে কুকুরগুলোকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তাঁর কথায়, ভিতরে যা ঘটেছে তা ‘বিশ্বাসের অতীত’।
শুধু শেল্টারেই নয়, রাস্তাতেও তিনি নৃশংসতার সাক্ষী হয়েছেন। বাড়ি ফেরার পথে তিনি দেখেন এক পথকুকুর, যাকে আদর করে ‘ভোলা’ বলে ডাকা হয়, মার খাচ্ছে। পরে তার ছবি তিনি শেয়ার করেন - একবার রাস্তায় লুটিয়ে থাকা অবস্থায়, আরেকবার চিকিৎসকের টেবিলে।
তিনি আরও জানান, দিল্লির স্থানীয় মানুষ, যাঁরা নিয়ম করে পথকুকুরদের খেতে দেন, তাঁরা প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছেন। তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে, এমনকী শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে।
হার্বিসনের দাবি, তিনি দিল্লির প্রাণীপ্রেমীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক স্তরে এই খবর ছড়িয়ে দেবেন। “এটি বৃহৎ আকারে প্রাণী নির্যাতনের ঘটনা। এক মিলিয়ন কুকুরের জীবন নির্ভর করছে এই বার্তাটা ছড়িয়ে দেওয়ার উপর,” লিখেছেন তিনি।
তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নীরবতারও তীব্র সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ট্যাগ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে, যিনি আগেই কোর্টের কুকুর সরানোর নির্দেশকে ‘নিষ্ঠুর ও করুণার অভাবপ্রসূত’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।