সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) আদেশে কেন্দ্র জানাল, সব রাজ্যে ৭০% আশ্রয়হীন কুকুরকে (Stray Dogs) নির্বীজকরণ ও টিকাদান (Sterilization and Vaccination) করতে হবে। মাসিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে, মিলবে আর্থিক সহায়তাও।

পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের নির্দেশ।
শেষ আপডেট: 25 August 2025 11:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথকুকুরদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের ভিত্তিতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অন্তত ৭০ শতাংশ কুকুরকে নির্বীজকরণ ও টিকাদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি রাজ্যকে মাসিক অগ্রগতি রিপোর্টও জমা দিতে হবে কেন্দ্রের কাছে, যাতে নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করা যায়।
এর আগে কেন্দ্রের ভূমিকা ছিল মূলত পরামর্শমূলক, কিন্তু এই নির্দেশের মাধ্যমে দায়িত্ব এখন সরাসরি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ওপর বর্তেছে। নির্বীজকরণ ও টিকাদান শেষ হলে কুকুরদের ফের তাদের আগের জায়গায় ছেড়ে দিতে হবে—সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও তাই বলছে।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, আশ্রয়হীন কুকুরদের নির্বীজকরণ ও টিকাদান সেরে তারপরই তাদেরকে আবার রাস্তায় ফেরত দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই কেন্দ্রীয় সরকার এই নতুন নীতি কার্যকর করেছে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে, নির্দেশ না মানলে পরিণতি ভুগতে হবে।
রাজ্যগুলিকে সহায়তা দিতে কেন্দ্র কিছু আর্থিক বরাদ্দ ঘোষণা করেছে—
প্রতিটি কুকুর নির্বীজকরণ ও টিকাদানের জন্য ভর্তুকি: ৮০০ টাকা
প্রতিটি বিড়ালের জন্য ভর্তুকি: ৬০০ টাকা
বড় শহরগুলিতে খাবারের জায়গা, জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ইউনিট ও আশ্রয়কেন্দ্র আধুনিকীকরণের জন্য আলাদা তহবিল
ছোট আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহায়তা সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা, বড় আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সর্বোচ্চ ২৭ লক্ষ টাকা
পশু হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলির জন্য এককালীন অনুদান: ২ কোটি টাকা
চিঠিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, নতুন জন্মনিয়ন্ত্রণ মডেলকে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিউর (SOP) হিসেবে মেনে চলতে হবে। এতে থাকবে—
নির্দিষ্ট ফিডিং জোন
২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন
বড় শহরে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ইউনিট
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল, পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নির্দেশ কার্যকর করতে স্থানীয় এনজিও ও আশা কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন। তাদের সহযোগিতায় কুকুর শনাক্তকরণ, মানবিকভাবে ধরার ব্যবস্থা, চিকিৎসা ও টিকাদান, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া-- এই গোটা পদ্ধতিটি নিশ্চিত করা হবে।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশ আশ্রয়হীন প্রাণীর সংখ্যা কমানো, জলাতঙ্ক প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে।