সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ নোটে বর্মা প্রশ্ন তুলেছেন, "যখন রাস্তায় চার বছরের এক শিশুকে দিনের আলোয় কুকুর মেরে ফেলেছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? বছরে হাজার হাজার মানুষ কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। তখন কি আপনার করুণা ফুরিয়ে যায়?"

কী বললেন রামগোপাল বর্মা?
শেষ আপডেট: 17 August 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত রাস্তার কুকুরকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হবে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে একাংশ প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। এ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক রাম গোপাল বর্মা। পথকুকুরদের হয়ে নয়, বরং তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীলতাকে নিয়েই কটাক্ষ করতে দেখা গেল তাঁকে।
সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ নোটে বর্মা প্রশ্ন তুলেছেন, "যখন রাস্তায় চার বছরের এক শিশুকে দিনের আলোয় কুকুর মেরে ফেলেছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? বছরে হাজার হাজার মানুষ কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। তখন কি আপনার করুণা ফুরিয়ে যায়? নাকি করুণা কেবল নাড়ানো লেজের জন্য, মৃত শিশুদের জন্য নয়?"
তিনি লেখেন, "কুকুর ভালোবাসায় দোষ নেই। আমিও ভালবাসি। তবে ভালবাসা দেখান নিজের বাড়িতে, আপনার বাগানে, বিলাসবহুল ভিলায়। বিদেশি ল্যাব্রাডর, পোষা হাস্কি বা দামি প্রজাতির কুকুর নিয়ে ছবি তুলুন, কিন্তু রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া কুকুরের ভয়ে বস্তির বাচ্চাদের প্রাণ যাচ্ছে।"

বর্মার অভিযোগ, এই বিপদ কেবল গরিবদের ঘাড়ে এসে পড়ে। "গেট বা ফেন্স নেই যেখানে, সেখানেই খেলে বাচ্চারা। কুকুর তাদের তাড়া করে, কামড়ে দেয়। অথচ বড়লোকেরা নিরাপদে নিজের কুকুর আদর করে। গরিবদের সন্তান হারানোর শোক কে বুঝবে?"
পরিচালক কুকুরপ্রেমীদের উদ্দেশে বলেন, "যদি সত্যিই ভালোবাসেন, তবে রাস্তার কুকুরকে দত্তক নিন। নিজের ঘরে নিয়ে সুরক্ষিত রাখুন। কিন্তু আপনার আবেগের বোঝা রাস্তার উপর ফেলবেন না। কারণ এক সমাজ যদি এক পথকুকুরের প্রাণকে এক শিশুর জীবনের চেয়ে বড় করে দেখে, তবে সেই সমাজ মানবিকতা হারিয়েছে।"
প্রসঙ্গত, গত ১১ আগস্ট বিচারপতি পারদিওয়ালা ও মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, দিল্লি-এনসিআর এলাকায় সমস্ত রাস্তার কুকুরকে অবিলম্বে ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। কোনও অবস্থাতেই তাদের আর রাস্তায় ছাড়া যাবে না। এমনকি কুকুর ধরার কাজে বাধা দিলে আদালত অবমাননার মামলা হবে বলেও স্পষ্ট জানায় সুপ্রিম কোর্ট।