সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিয়ে হবে গ্রামেই বা বাড়িতে, কোনও ম্যারেজ হল ব্যবহার করা যাবে না। অতিথির সংখ্যাও সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের গ্রামে ছেলে-মেয়েদের হাফপ্যান্ট পরায় নিষেধাজ্ঞা
শেষ আপডেট: 27 December 2025 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বাঘপত জেলায় খাপ পঞ্চায়েতের একাধিক নির্দেশ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমাজে ‘সংস্কৃতি রক্ষা’ ও তথাকথিত পাশ্চাত্য প্রভাব ঠেকানোর যুক্তিতে ছেলে-মেয়েদের স্মার্টফোন ব্যবহার (Smart Phone) এবং হাফ প্যান্ট (Half Pant) পরা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ থেকে ২০ বছরের কম বয়সিদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ছেলে ও মেয়েদের হাফ প্যান্ট পরার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিয়েবাড়ির আয়োজন নিয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছে খাপ পঞ্চায়েত।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিয়ে হবে গ্রামেই বা বাড়িতে, কোনও ম্যারেজ হল ব্যবহার করা যাবে না। অতিথির সংখ্যাও সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র ছাপিয়ে বিলি না করে হোয়াটসঅ্যাপেই আমন্ত্রণ পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খাপ পঞ্চায়েতের দাবি, এই সব সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য সামাজিক সৌহার্দ বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত খরচ ও ‘অপসংস্কৃতি’ রুখে দেওয়া। পঞ্চায়েতের বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা জানান, শুধু বাঘপত নয়, গোটা উত্তরপ্রদেশ জুড়েই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার চেষ্টা হবে। এ জন্য অন্যান্য খাপ পঞ্চায়েতের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে।
থম্বা দেশ খাপের চৌধুরী ব্রজপাল সিং বলেন, “সমাজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। রাজস্থানে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। আমাদের এখানেও স্মার্টফোন ও হাফ প্যান্ট নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ছেলেমেয়েদের পরিবারের সঙ্গে বসে বড়দের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।” তাঁর মতে, ১৮-২০ বছর বয়সি তরুণদের ফোনের প্রয়োজন নেই।
ডাগধ খাপের চৌধুরী ওমপাল সিংয়ের বক্তব্য, “মেয়েদের হাতে মোবাইল দিলে অনেক সময় খারাপ অভ্যাস তৈরি হয়। একই নিয়ম ছেলেদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফোন বাড়িতেই রাখা উচিত।” বিয়ের প্রসঙ্গে তাঁর মত, গ্রামে বা বাড়িতে বিয়ে হলে সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা কম হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নরেশ পালের দাবি, এই সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “নাবালকদের হাতে ফোন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। স্কুলে পড়াশোনার প্রয়োজনে মোবাইল এক জিনিস, কিন্তু বাড়িতে তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী।”
সব মিলিয়ে, সংস্কৃতি রক্ষার নামে খাপ পঞ্চায়েতের এই ফরমান সমাজে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে এবং বাস্তবে কী ভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বস্তুত, সাধারণতন্ত্র দিবস থেকে রাজস্থানের ১৫টি গ্রামের তরুণী ও পুত্রবধূরা ক্যামেরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনও ধরনের অনুষ্ঠানে বা প্রতিবেশীদের বাড়িতে গেলেও মোবাইল নিয়ে যাওয়া যাবে না। জালোর জেলার ১৫টি গ্রামে এমনই নির্দেশিকা জারি করেছে গ্রাম পঞ্চায়েত।