পুত্রবধূ ও যুবতী মহিলারা আর ক্যামেরা লাগানো মোবাইল ফোন ব্যবহার (Camera Mobile Phone Use) করতে পারবেন না। তাঁদের হাতে থাকবে শুধু সাধারণ কি-প্যাড ফোন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 December 2025 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের জালোর (Rajasthan) জেলার এক গ্রাম পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। গাজিপুর গ্রামে চৌধুরী সম্প্রদায়ের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৫টি গ্রামের পুত্রবধূ ও যুবতী মহিলারা আর ক্যামেরা লাগানো মোবাইল ফোন ব্যবহার (Camera Mobile Phone Use) করতে পারবেন না। তাঁদের হাতে থাকবে শুধু সাধারণ কি-প্যাড ফোন, তাও কেবল ফোন করার জন্য (No Camera Phones)।
রবিবার গাজিপুর (Gazipur) গ্রামের ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চৌধুরী সম্প্রদায়ের ১৪ পট্টির সভাপতি সুজনরাম চৌধুরী। পঞ্চায়েত সদস্য পঞ্চ হিম্মতরামের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় বলে পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুত্রবধূ ও যুবতী মহিলারা বাড়ির বাইরে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠান, বিয়েবাড়ি, উৎসব এমনকি প্রতিবেশীর বাড়িতেও মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না।
তবে পড়ুয়া মেয়েদের ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় রাখা হয়েছে। পড়াশোনার প্রয়োজনে তারা বাড়ির মধ্যে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু কোনও অবস্থাতেই সেই ফোন বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি মিলবে না।
এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় সুজনরাম চৌধুরী জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত সদস্য ও সম্প্রদায়ের প্রবীণদের সঙ্গে আলোচনার পরই এই নিয়ম আনা হয়েছে। তাঁর দাবি, অনেক সময় মহিলাদের মোবাইল ফোন শিশুরা ব্যবহার করে, যার ফলে তাদের চোখের ক্ষতি হতে পারে। আবার সংসারের কাজ সামলাতে সুবিধার জন্য অনেক মহিলা শিশুদের হাতে ফোন তুলে দেন—এটিও সমস্যা তৈরি করছে বলে পঞ্চায়েতের মত।
পঞ্চায়েতের দাবি, মোবাইল ব্যবহারে লাগাম টানলে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। যদিও এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিস্বাধীনতা, নারী-অধিকার এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
শুধু রাজস্থানই নয়। '১৯ সালের ঘটনা। গুজরাতের এক গ্রামের ঠাকর সম্প্রদায়ের কর্তাব্যক্তিরা একবার আলোচনা করে ঠিক করেন, ঠাকর সম্প্রদায়ের কোনও মেয়ে যদি অন্য সম্প্রদায়ের কোনও ছেলেকে বিয়ে করে তাহলে সেই ঘটনার দায় বর্তাবে মেয়েটির বাবা-মায়ের উপর। ওই কাজের জন্য মেয়েটির পরিবারকে ১.৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এই কাজ যদি ঠাকর সম্প্রদায়ের কোনও ছেলে করে তাহলে ছেলেটির পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ওই সভায়।
শুধু তাই নয়, অবিবাহিত মেয়েদের মোবাইল ব্যবহার করা নিয়েও ঠাকর সম্প্রদায়ের নেতারা ফতোয়া জারি করেন। তাঁরা মনে করেন, প্রযুক্তির দিকে মেয়েরা বেশি ঝুঁকে পড়লে তাঁদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে। তাই কলেজে যাওয়া অবিবাহিত মেয়েদের হাতেও মোবাইল দিতে বারণ করে দেওয়া হয়েছিল।