রাজনাথ সিংয়ের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে কারণ সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন।

রাজনাথ সিং
শেষ আপডেট: 30 August 2025 13:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের শুল্কনীতিতে (Tariff) অনড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দেশের অন্দরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে সমালোচিত হলেও সিদ্ধান্ত থেকে নড়ছেন না তিনি। এই অবস্থায় ভারতও তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলেছে - মাথা নত করা হবে না। দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও নাম না করে ট্রাম্পের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন।
শনিবার এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) বলেন, “দেশের স্বার্থ সবার আগে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে (International Relation) স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু হয় না।” তাঁর আরও বক্তব্য, কৃষক থেকে শুরু করে শিল্পোদ্যোগিদের স্বার্থই সরকারের কাছে মুখ্য। ভারতের উন্নতির পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে চাইলে তারও জবাব দেওয়া হবে।
রাজনাথ সিংয়ের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে কারণ সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারতীয় পণ্যের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। কয়েকদিন আগে নাম না করে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। অভিযোগ করেছিলেন, “ভারতের দ্রুত উন্নতি অনেকের সহ্য হচ্ছে না।” তারপর এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতিতে চাপ তৈরি হলেও কেন্দ্র স্পষ্ট বার্তা দিল - ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ হবে একমাত্র জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখেই। সেটা যে স্বাভাবিক তাই বারবার স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। এই আবহেই আবার নিজ দেশেই আদালতের কাছে ধাক্কা খেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফেডারেল আপিল আদালত শুক্রবার জানায়, ট্রাম্প জরুরি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে একাধিক দেশের উপরে শুল্ক বা ট্যারিফ (Tariff) আরোপ করেছিলেন। তবে তা সত্ত্বেও আদালত আপাতত এই ট্যারিফগুলি বহাল রেখেছে, যাতে হোয়াইট হাউসের হাতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ থাকে।
ট্রাম্প অবশ্য পিছু হটতে রাজি নন। তিনি ঘোষণা করেছেন, এই লড়াই তিনি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। তাঁর ভাষায়, “এই রায় যদি বহাল থাকে, তাহলে আমেরিকা ধ্বংস হয়ে যাবে।” পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য কৌশল চাপে পড়বে। বিদেশি সরকারগুলি নতুন করে আলোচনায় কড়া অবস্থান নিতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।