তোমরা তো মানুষও নও, কারণ তোমরা কেবল তোমাদের সস্তা জনপ্রিয়তা এবং মতামতের জন্য ২০০৮ সালের একটি ঘটনা টেনে আনছ।

শেষ আপডেট: 30 August 2025 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিন আগেই প্রকাশ্যে এসেছে ২০০৮ আইপিএলের একটি অপ্রকাশিত ভিডিও। আর সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম পাঞ্জাব সুপার কিংসের ম্যাচ শেষ হওয়ার পর হরভজন সিং শ্রীসন্থকে (Harbhajan Singh, S Sreesanth) চড় মারছেন।
১৮ বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছেন ললিত মোদি (Lalit Modi), যিনি তখন আইপিএলের চেয়ারম্যান ছিলেন। ঘটনাটি পরিচিতি পেয়েছিল স্ল্যাপগেট (Slapgate) কাণ্ড হিসাবে।
থাপ্পড় কাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর শ্রীসন্থের স্ত্রী (Sreesanth’s wife) রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েললিত মোদীকে তুলোধনা করে ছেড়েছেন। ভারতীয় দলের প্রাক্তন ফাস্ট বোলার এস শ্রীসন্থের স্ত্রী ভুবনেশ্বরী সেই সঙ্গে প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কেরও সমালোচনা করেছেন। কারণ ললিত মোদী মাইকেল ক্লার্কের পডকাস্টে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন।
সেই সময় এই ফুটেজটি প্রকাশ করা হয়নি, কারণ ম্যাচের পরে মাঠের ক্যামেরা বন্ধ থাকে। ললিত মোদী জানিয়েছেন, নিরাপত্তার জন্য রাখা ক্যামেরাগুলিতে এই ঘটনা ধরা পড়েছিল। তাই এই অংশটি সরাসরি সম্প্রচারে দৃশ্যমান ছিল না।
এই ক্লিপটির প্রতিক্রিয়ায় ভুবনেশ্বরী সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী এবং ক্লার্কের সমালোচনা করেন। তিনি বলেছেন, ললিত এবং ক্লার্ক একটি বেদনাদায়ক ঘটনা ১৮ বছর পরে প্রকাশ্যে এনেছেন, যে ঘটনা থেকে উভয় খেলোয়াড়ই এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ভুবনেশ্বরী লিখেছেন, "ললিত মোদী এবং মাইকেল ক্লার্কদের লজ্জা! তোমরা তো মানুষও নও, কারণ তোমরা কেবল তোমাদের সস্তা জনপ্রিয়তা এবং মতামতের জন্য ২০০৮ সালের একটি ঘটনা টেনে আনছ। শ্রীসন্থ এবং হরভজন উভয়েই অনেক আগে এই ঘটনা থেকে সরে এসেছেন। তাঁরা এখন স্কুলগামী শিশুদের বাবা, তবুও তোমরা তাঁদের পুরনো ক্ষতের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করছো। অত্যন্ত জঘন্য, নিষ্ঠুর এবং অমানবিক আচরণ।"
এই ঘটনার বহু বছর পর, ভাজ্জি ও শ্রীসন্থ উভয়েই বলেছিলেন, তাঁরা বন্ধু এবং সেই ঘটনাটি পিছনে ফেলে এসেছেন। শ্রীসন্থ নিজেই বলেছিলেন, “হরভজন আমার কাছে বড় ভাইয়ের মতো, ওর প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোনও ক্ষোভ ছিল না। আমরা মাঠের বিতর্ক ভুলে গিয়েছি।” সম্প্রতি ভাজ্জিও অশ্বিনের ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, যদি তিনি পিছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান, তাহলে তিনি শ্রীসন্থের ঘটনাটি পরিবর্তন করতে চাইবেন এবং কামনা করবেন যে এটি কখনও না ঘটে। তিনি এখনও শ্রীসান্তকে চড় মারার জন্য অনুতপ্ত এবং এটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।