এলপিজি সংকটের মাঝে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। দুস্থ পরিবারকে ৬০ দিনের জন্য কেরোসিন সরবরাহ করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি চাপে বিকল্প ব্যবস্থায় জোর দিচ্ছে সরকার।

কেরোসিন সরবরাহ
শেষ আপডেট: 30 March 2026 09:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) অস্থিরতা বাড়তেই জ্বালানি (fuel) সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ। সেই পরিস্থিতিতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের (Central Government)। সীমিত সময়ের জন্য কিছু পরিবারকে কেরোসিন (kerosene) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত এলপিজি (LPG)-র উপর চাপ কমানো এবং সাধারণ মানুষের রান্না (cooking) ও আলোর প্রয়োজন মেটাতেই এই পদক্ষেপ।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অস্থায়ী ব্যবস্থায় ৬০ দিন (60 days) পর্যন্ত কেরোসিন সরবরাহ করা হবে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে দুর্বল (vulnerable sections) পরিবারগুলোকে। এলপিজির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করাই এক মূল লক্ষ্য।
এই কেরোসিন বিতরণ (distribution) করা হবে নির্দিষ্ট পেট্রল পাম্পের (petrol pump) মাধ্যমে। প্রতিটি জেলায় (district) দু’টো করে পাম্প বেছে নেওয়া হবে, সেখান থেকে সাধারণ মানুষ কেরোসিন সংগ্রহ করতে পারবেন। যাদের বাড়িতে এখনও স্টোভ আছে, তাদের রান্না করতে সুবিধা হবে।
যেসব ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (States and Union Territories) আগে পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে (PDS) ‘কেরোসিন-মুক্ত’ (kerosene-free) ঘোষণা হয়েছিল, সেখানেও আপাতত অ্যাড-হক (ad hoc) ভিত্তিতে কেরোসিন বরাদ্দ করা হবে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক (Ministry of Petroleum and Natural Gas) এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ইতিমধ্যে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির খবর। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও ভারত (India) আপাতত এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় পতাকাবাহী (Indian-flagged) দুটি জাহাজ— বিডব্লিউ টায়ার (BW TYR) ও বিডব্লিউ এলম (BW ELM)— নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করেছে। এই দুই জাহাজে মোট এলপিজি রয়েছে প্রায় ৯৪,০০০ টন (94,000 tonnes)।
এর মধ্যে বিডব্লিউ টায়ার মুম্বইয়ের (Mumbai) পথে রয়েছে এবং ৩১ মার্চ (March 31) পৌঁছনোর কথা। অন্যদিকে বিডব্লিউ এলম ১ এপ্রিল (April 1) নিউ মাঙ্গালোরে (New Mangalore) নোঙর করবে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের (global energy crisis) মাঝেও দেশীয় সরবরাহ বজায় রাখতে একদিকে যেমন কেরোসিন বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে এলপিজি আমদানিও স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট কেন্দ্র।