পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে এলপিজি ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। তার জেরে বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ইন্ডাকশন কেনার টেন্ডার দিয়েছে EESL।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 March 2026 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহে (LPG Shortage Crisis) অনিশ্চয়তার আবহে ই-রান্নার দিকেই ঝুঁকছে মানুষ। সেই বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনার্জি এফিশিয়েন্সি সার্ভিসেস লিমিটেড (EESL)। সরকারি সূত্রে খবর, ধাপে ধাপে প্রায় ৫ লক্ষ ইন্ডাকশন কুকস্টোভ (Induction Cooktop) কেনার জন্য নতুন টেন্ডার আনতে চলেছে সংস্থা।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে (Middle East Crisis) এলপিজি ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। তার জেরে বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ইন্ডাকশন কেনার টেন্ডার দিয়েছে EESL। পাশাপাশি, ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে ইন্ডাকশন-সামঞ্জস্যপূর্ণ বাসনপত্রের জন্যও টেন্ডার করা হয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বাজারে চাহিদা ‘অভূতপূর্ব’ হারে বেড়েছে। বর্তমান সরবরাহ শেষ হলেই আরও বড় আকারে নতুন টেন্ডার ডাকা হবে।
২০২৩ সালে চালু হওয়া ন্যাশনাল ইলেকট্রিক কুকিং প্রোগ্রাম (NECP)-এর আওতায় ই-রান্না জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে EESL। এই কর্মসূচি কেন্দ্রের ‘Go Electric’ প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংস্থার দাবি, ইন্ডাকশন ভিত্তিক রান্না এলপিজির তুলনায় ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমাতে পারে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাড়ায় এবং দূষণও কমায়।
বর্তমানে EESL প্রায় ১ লক্ষ ইন্ডাকশন বিভিন্ন রাজ্য সরকার, সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পাশাপাশি, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক দেশীয় প্রস্তুতকারকের সঙ্গে এক বছরের চুক্তিও করেছে সংস্থা।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি অনিশ্চয়তার সময়ে ই-রান্নাকে সামনে রেখে বিকল্প ব্যবস্থার দিকেই এগোতে চাইছে কেন্দ্র - যা ভবিষ্যতে দেশের রান্নার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এদিকে, আরব দুনিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) আবহে ‘এনার্জি লকডাউন’ (Energy Lockdown) কি হবে? এই নিয়ে এখন ধন্দ। গোটা দেশের মানুষের মনে প্রশ্ন, গ্যাসের জোগান ঠিক মতো রয়েছে কিনা। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ইতিমধ্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গ্যাসের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জরুরি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে পেট্রোল, ডিজেল এবং এভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল (ATF)-এর কোনও আকাল হবে না।
সবথেকে বড় কথা, আমজনতাকে স্বস্তি দিয়ে নির্মলা সীতারামন জানান, ‘লকডাউন’ নিয়ে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কোভিডের মতো কোনও লকডাউন জারি করার পরিকল্পনা নেই।