হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) প্রায় বন্ধ থাকলেও ভারতের জন্য দরজা খুলে রেখেছে তেহরান। শনিবার আরও দু’টি গ্যাসবাহী ভারতীয় জাহাজকে (Indian LPG Tanker) ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ পেরোতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 March 2026 22:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির (West Asia Conflict) মধ্যেও ভারতকে আবারও বিশেষ ছাড় দিল ইরান। হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) প্রায় বন্ধ থাকলেও ভারতের জন্য দরজা খুলে রেখেছে তেহরান। শনিবার আরও দু’টি গ্যাসবাহী ভারতীয় জাহাজকে (Indian LPG Tanker) ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ পেরোতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে টানাপড়েন চলছে, ঘরে ঘরে এলপিজি সরবরাহও অনিয়মিত- এমন সময় ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ অতিক্রমের অনুমতি মিলতে স্বাভাবিক ভাবেই স্বস্তি মিলেছে।
সূত্রের খবর, BW ELM এবং BW TYR নামের দুটি এলপিজি বোঝাই ভারতীয় জাহাজ একই সঙ্গে হরমুজ পেরিয়েছে। জাহাজদুটিতে মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টনের বেশি এলপিজি (LPG)। যুদ্ধ শুরুর পর কয়েকদিন সমুদ্রে অপেক্ষায় থাকার পরে অবশেষে পথ পেয়েছে এই জাহাজগুলি। দ্রুতগতিতে প্রণালী পার হয়ে এগিয়ে আসছে ভারতের দিকে। ইতিমধ্যেই তেল ও গ্যাস নিয়ে ভারতের চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) পেরোতে সক্ষম হয়েছে। প্রায় একমাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে এবার আরও দু’টি জাহাজ ভারতে ফিরছে- যা পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতি আনবে বলেই আশা।
যদিও জাহাজগুলি সরাসরি শর্টকাট পথে আসতে পারছে না। প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা ঘুরপথে যেতে হচ্ছে তাদের। দিনদুয়েক আগেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ পুরোপুরি আটকে দেওয়া হয়নি। ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন কয়েকটি দেশের জাহাজকে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেই তালিকায় রয়েছে চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ভারত। ভারতীয় জাহাজগুলি চিহ্নিত করতে সুবিধা হয়, সেই কারণেই তুলনামূলক জটিল রুট অনুসরণ করতে হচ্ছে।
তবে এখনও উদ্বেগ কাটছে না। হরমুজ সংলগ্ন এলাকায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ আটকে আছে বলে জানা গিয়েছে। যেগুলি খালি রয়েছে, সেগুলিতে এলপিজি বোঝাই করা শুরু হয়েছে। এই জাহাজগুলি ইরানের সহায়তায় ভারতে ফিরতে পারলে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া গ্যাস সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলেই আশা সাধারণ মানুষের। বর্তমানে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক নয়- অনেক জায়গায় ২৫ দিনের আগে বুকিং করা যাচ্ছে না, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে গৃহস্থদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে দুই গ্যাসবাহী জাহাজের হরমুজ পার হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এগুলি সময়মতো ভারতে পৌঁছলে অন্তত কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।