মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া জেলায় গত দু’সপ্তাহে কিডনি বিকল হয়ে মারা গেছে ন’জন শিশু। রাজস্থানের সিকার ও মহারাষ্ট্রেও একই ধরনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 October 2025 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশির ওষুধ খেয়ে পরপর শিশু মৃত্যুর ঘটনায় (Cough Syrup Deaths) এবার বড় পদক্ষেপ। বাচ্চাদের কাশির ওষুধ দেওয়া নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা জারি করল ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস (DGHS)। স্পষ্ট করে জানান হল, ২ বছর বা তার কম বয়সীদের কোনও ভাবে কাফ-সিরাপ দেওয়া যাবে না।
মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh) ও মহারাষ্ট্রে (Maharastra) শিশু মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। একের পর এক মৃত্যু ঘিরে আতঙ্কের পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস (DGHS)।
মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া জেলায় গত দু’সপ্তাহে কিডনি বিকল হয়ে মারা গেছে ন’জন শিশু। রাজস্থানের (Rajasthan) সিকার ও মহারাষ্ট্রেও একই ধরনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্তাদের সন্দেহ, এই মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে পারে কাশির সিরাপ। মৃত শিশুদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন একটি কাশির সিরাপ খেয়েছিল বলে জানা গেছে, আর এক শিশুকে দেওয়া হয়েছিল অন্য একটি ওষুধ।
এদিকে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO) জানিয়েছে, যে কাশির সিরাপকে (Cough Syrup Deaths) দায়ী করা হচ্ছিল, তার মধ্যে কোনও ভেজাল নেই। সরকারি হাসপাতালগুলিতে সরবরাহ করা হয় এই জেনেরিক কাশি কমানোর ওষুধ (Cough Syrup) ডেক্সট্রোমেথরফ্যান হাইড্রোব্রোমাইড। শিশু মৃত্যুর অভিযোগের পর ওষুধটির নমুনা পরীক্ষা করে কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, “এখনও পর্যন্ত কোনও ধরনের ভেজাল পাওয়া যায়নি। সিরাপ থেকে বিষক্রিয়ার অভিযোগও ভিত্তিহীন।”
মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্য দফতরের পাঁচ সদস্যের এক তদন্তকারী দল জানিয়েছে, জব্বলপুরের কাটারিয়া ফার্মা থেকে একটি সিরাপ বিতরণ করা হয়েছিল। কোম্পানি মোট ৬৬০ ভায়াল ‘কোলড্রিফ’ সিরাপ চেন্নাইয়ের এক সংস্থার থেকে কিনেছিল। এর মধ্যে ৫৯৪ ভায়াল জব্বলপুর থেকে পাঠানো হয় ছিন্দওয়ারায়।
১৬টি ভায়ালের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ভোপালে। এদিকে কাটারিয়া ফার্মার ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে জব্বলপুরের ওমতি থানায়।
এদিকে, আগাম সতর্কতা হিসেবে তামিলনাড়ু সরকারের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোল্ডরিফ কাফ সিরাপ রাজ্যে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। কোম্পানির কাঞ্চিপুরম কারখানা থেকে কোনও ওষুধ বাজারে বেরবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।