লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi) এবং ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Bloc) শরিক দলের প্রথম সারির নেতারা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে সভা পরিচালনায় পক্ষপাতীত্বের অভিযোগ তুলে ভাষণ দেবেন।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা
শেষ আপডেট: 9 March 2026 08:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Loksabha Speaker Om Birla) বিরুদ্ধে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব (No-confidence motion) নিয়ে আজ সোমবার বিতর্ক হওয়ার কথা। রবিবার ছুটির দিনে সরকার ও বিরোধী, দু'পক্ষই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে বিতর্কে জন্য তাদের প্রস্তুতি নিয়েছে। লোকসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরা বিতর্কে অংশ নিতে পারেন।
অন্যদিকে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi) এবং ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Bloc) শরিক দলের প্রথম সারির নেতারা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে সভা পরিচালনায় পক্ষপাতীত্বের অভিযোগ তুলে ভাষণ দেবেন। তৃণমূলের তরফে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ইতিপূর্বে একাধিকবার সভায় স্পিকারে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে শেষবার অনাস্থা প্রস্তাব এসেছিল ৩৯ বছর আগে। ওম বিড়লার আগে আরও তিনজন লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে কোন বাড়ি প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। শাসক জোটের কাছে সংখ্যার লড়াইয়ে হেরে যায় বিরোধীরা। আসলে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণটাই বিরোধীদের মূল লক্ষ্য নয়। অনার্স প্রস্তাব এনে স্পিকারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি নথিভুক্ত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সোমবার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আলোচনা সময় ওম বিড়লা অধিবেশন কক্ষে থাকবেন না। তবে বাকি সময় স্পিকার হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। বিরোধীরা সোমবার বিদেশ নীতি সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা দাবি করেছে। এই ব্যাপারে সরকার পক্ষ স্পষ্ট কিছু না জানালেও লোকসভার সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আরব দুনিয়ার চলতি পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর লোকসভায় বিবৃতি দেবেন।
স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছিল কংগ্রেস (Congress)। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) গোড়ায় এই ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করলেও দুদিন আগে দল জানিয়েছে, তারা ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবে। ফলে স্পিকারে বিরুদ্ধে অনাস্থা বিতর্কে লোকসভা উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
যদিও অতীতে আরও তিনবার এই ধরনের প্রস্তাব লোকসভায় এলেও তা পাশ হয়নি। প্রথম প্রস্তাব এসেছিল ১৯৫৪ সালে। তৎকালীন স্পিকার জিবি মালমবেকরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছিলেন সমাজবাদী সাংসদ বিগন্বেশ্বর মিশ্র। সেই প্রস্তাব লোকসভায় পাশ হয়নি।
এরপর ১৯৬৬ সালে তৎকালীন স্পিকার সর্দার হুকুম সিংহের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন আরেক সমাজবাদী নেতা মধু লিমায়ে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে পাশ হয়নি তাঁর প্রস্তাবও।
তৃতীয়বার লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। তখন স্পিকার ছিলেন কংগ্রেসের বলরাম ঝাকর। সিপিএমের লোকসভার দলনেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন স্পিকারে বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেও তা খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে সোমনাথবাবু নিজেও লোকসভার স্পিকার হয়েছিলেন। তাঁর সভা পরিচালনা নিয়ে একাধিক দল অসন্তোষ ব্যক্ত করলেও সরাসরি অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হয়নি।
লোকসভার সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে অনেক স্পিকারের বিরুদ্ধেই বিরোধীরা অনাস্থা ব্যক্ত করলেও প্রস্তাব আনার মতো উপযুক্ত সংখ্যক সাংসদের সমর্থন না থাকায় সেগুলি পেশ করাই যায়নি।
লোকসভার বর্তমান স্পিকার ওম বিড়লা সোমবার অধিবেশনের শুরুতে সভায় থাকবেন। একজন সাংসদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব পাঠের পর তিনি সভা ত্যাগ করবেন। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের মাঝে আলোচনা হবে আরব দুনিয়া নিয়ে। স্পিকার বিড়লা তখন আবার সবাই উপস্থিত থাকবেন।