বিজেপি নেতাদের মতে, শুধু মহিলা ভোট নয়, বিহারে এবার হিন্দু ভোটেরও তীব্র মেরুকরণ ঘটেছে। তার ফলে লালু প্রসাদের যাদব ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামিয়ে বিজেপি প্রচুর যাদব ভোটও পেয়েছে। সেই সঙ্গে তফসিলি জাতি, উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি এবং অতি পিছড়ারাও এনডিএ-কে ভোট দিয়েছে। সেই সব সমষ্টিগত কারণেই বিহারে স্যুইপ করল এনডিএ।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 14 November 2025 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার নির্বাচনের (Bihar Election 2025) প্রথম দফার ভোটের পরই একটা সম্ভাবনার কথা ঘোরা ফেরা করছিল। তা হল, রেকর্ড ভোটদান ও মহিলাদের বিপুলভাবে অংশগ্রহণ। দ্বিতীয় দফার ভোটের পর সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়ে যায়। দেখা যায়, স্বাধীনতার পর বিহারে সবচেয়ে বেশি হারে ভোটদান হয়েছেই, কিন্তু তার চেয়েও বড় হল, বিহারে মহিলাদের ভোটদানের হার (Bihar Election Women Voting Percentage) এক লাফে ১২ শতাংশ বেড়ে গেছে। এমনিতেই বিহারে গত কয়েকটি ভোটে দেখা গিয়েছে, মহিলাদের ভোটদানের হার পুরুষদের তুলনায় বেশি। এবার দেখা গেল, পুরুষদের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। বিহার ভোটের ফলাফল (Bihar Election Result) তখনই দেওয়ালে লেখা হয়ে গেছিল, বাজিমাৎ করে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা। ভোটের আগে রাজ্যের ১ কোটি ২১ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১০ হাজার টাকার অনুদান। মহিলাদের ক্ষমতায়ণের জন্য এভাবে সরাসরি নগদ দেওয়ার প্রকল্পের প্রথমে শুরু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Mamata Banerjee)। একুশের ভোটের ইস্তেহারে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার যোজনার ঘোষণা করেছিলেন। তার পর ভোটে জিতে চার মাসের মধ্যেই লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রকল্প শুরু করে দেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের (Loksabha Eelction) আগে সেই খাতে ভাতা বাড়িয়ে দ্বিগুণও করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং সেই এক প্রকল্পের সুবাদে গোটা বাংলায় মহিলাদের মধ্যে শুধু ২ কোটির বেশি উপভোক্তা শ্রেণি তৈরি করেননি তিনি, জনভিত্তিও মজবুত করে ফেলেন।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, এভাবে সরাসরি টাকা দেওয়ার প্রকল্পকে এক সময়ে রেবড়ি বলে খোঁচা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অথচ ঘটনা হল, ঠ্যালায় পড়ে একের পর এক রাজ্যে বিজেপিকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ অনুসরণ করতে হয়। তা সে ওড়িশা হোক বা মহারাষ্ট্রে। আর এবার বিহার ভোটের ঠিক মুখে প্রথম দফায় রাজ্যের ৭০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পাঠানোর শুভ উদ্বোধন করেন সেই নরেন্দ্র মোদীই।
বিহারে এনডিএ-র (NDA) কাছে ছিল ৪৩ শতাংশ ভোট। এখনও পর্যন্ত যা ইঙ্গিত তাতে বিহারে এনডিএ-র ভোট শতাংশ প্রায় ৫০ ছুঁতে চলেছে। অর্থাৎ ৫ শতাংশের বেশি স্যুইং দেখা যাচ্ছে এনডিএ-র অনুকূলে। তামাম রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, নীতীশের ঘোষণা করা ওই একটা প্রকল্পই গেম চেঞ্জার হয়ে উঠেছে। বিহারে মহিলাদের মধ্যে নীতীশ কুমারের গ্রহণযোগ্যতা অনেক আগে থেকেই ছিল। ২০০৫ সালে নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) যখন প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হন, তখনই স্কুল পড়ুয়া মহিলাদের সাইকেল দিয়েছিলেন। এখন তাঁরা অনেকেই গৃহবধূ। এই ভোটের আগে তাঁরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। তা ছাড়া বিহারে মদ নিষিদ্ধ করে দেওয়া, পুলিশের চাকরিতে মহিলাদের বাধ্যতামূলক সংরক্ষণ, পঞ্চায়েতে ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ সবই মহিলা জনভিত্তিকে ধারাবাহিক ভাবে মজবুত করেছে।
তবে বিজেপি নেতাদের মতে, শুধু মহিলা ভোট নয়, বিহারে এবার হিন্দু ভোটেরও তীব্র মেরুকরণ ঘটেছে। তার ফলে লালু প্রসাদের যাদব ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামিয়ে বিজেপি প্রচুর যাদব ভোটও পেয়েছে। সেই সঙ্গে তফসিলি জাতি, উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি এবং অতি পিছড়ারাও এনডিএ-কে ভোট দিয়েছে। সেই সব সমষ্টিগত কারণেই বিহারে স্যুইপ করল এনডিএ (NDA)।