ভারতীয় সেনার অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। নতুন উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে মূলত দুই জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 June 2025 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগাম হামলার পর ভারতীয় সেনার 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযানে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত আঘাতের প্রমাণ মিলল আরও একবার। সম্প্রতি সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম তাঁদের রিপোর্টে দাবি করেছে, নতুন উপগ্রহ চিত্রে ভারতের ধ্বংসাত্মক অভিযানের প্রমাণ একেবারে স্পষ্ট। কী রয়েছে সেই রিপোর্টে?
ভারতীয় সেনার অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। নতুন উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে মূলত দুই জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র — সইদনা বিলাল ক্যাম্প এবং কোটলি গুলপুর ক্যাম্পের ছবি। কী বোঝা যাচ্ছে সেই ছবি দেখে?
সইদনা বিলাল ক্যাম্প: জঙ্গিদের লঞ্চপ্যাডে নিখুঁত আঘাত
মুজফ্ফরাবাদে অবস্থিত সইদনা বিলাল ক্যাম্প ছিল জইশ-ই-মহম্মদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সেনা সূত্রে খবর, এখানেই অস্ত্র চালানো, জঙ্গলে টিকে থাকার কৌশল, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদের ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত।
উপগ্রহ চিত্র অনুযায়ী, এই ক্যাম্পের কয়েকটি ভবন একেবারে গুঁড়িয়ে গেছে। আশপাশে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সাধারণ মানুষের ক্ষতির প্রমাণ নেই — যা থেকে বোঝা যায়, নিশানা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুন মাসে এখানেই একদল জঙ্গিকে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল উরি ও কেরান সেক্টরের মধ্য দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করে জম্মুর কাঠুয়া-রামবান রেল ব্রিজে হামলা চালানো।
প্রশিক্ষণের পরে, তাদের পাকিস্তানের পাঞ্জাবে একাধিক লঞ্চপ্যাডে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মার্চ থেকে মে ২০২৪-এর মধ্যে তাদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। সেনার অনুমান, গত বছরের অধিকাংশ জঙ্গি হামলার পেছনে এদেরই ভূমিকা ছিল।
কোটলি গুলপুর ক্যাম্প: লস্কর-ই-তৈবার ঘাঁটি
এটি কোটলির গুলপুরে, লস্কর-ই-তৈবার মূল ঘাঁটি। এখান থেকেই রাজৌরি-পুঞ্চ অঞ্চলে হামলার ছক কষা হত বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। এখানে একটি বড় ভবনের একেবারে মাঝ বরাবর ফাটল দেখা গেছে উপগ্রহ চিত্রে। তার পাশের একটি ছোট বাড়ির ছাদও ভেঙে গেছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এখানেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল সেই জঙ্গিরা যারা ২০২৩ সালে পুঞ্চে হামলা চালিয়েছিল এবং যাত্রী বোঝাই বাসে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। এই ঘাঁটির নির্মাণ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের অগস্ট-সেপ্টেম্বরে।

সেনা সূত্র বলছে, কোটলির ওই ঘাঁটি ছিল লস্করের উন্নততর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে আত্মঘাতী হামলাকারীদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। ওই ক্যাম্পে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৫০ জন জঙ্গি ও প্রশিক্ষক থাকতেন। পাশাপাশি, এটি ছিল গেরিলা যুদ্ধ, অস্ত্র চালনা ও বেঁচে থাকার কৌশলের পরিচিত ঘাঁটি—যেখানে একাধিক জঙ্গি সংগঠন একযোগে প্রশিক্ষণ চালাত।
২০১৯ সালে বালাকোট অভিযানের পরে ক্যাম্পটি কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকলেও ২০২০ সাল থেকেই সেখানে ফের জঙ্গি প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
এই অভিযানে ভারতের বার্তা স্পষ্ট — সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর আর নিরাপদ নয়। ভারত যে শুধু জবাব দিতে জানে না, প্রয়োজনমতো ঘরের ভিতর ঢুকেও আঘাত করতে পারে — তারই নতুন উদাহরণ হয়ে রইল ‘অপারেশন সিঁদুর’।