দেশীয় বাজারকে চাঙ্গা করতে চায় এনডিএ সরকার। কারণ, সস্তায় চিনা ইস্পাতের কারণে দেশের বড় বড় প্রস্তুতকারী সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

আমেরিকার শুল্কযুদ্ধের মোকাবিলা করতে এই মুহূর্তে দেশীয় বাজারের ফুসফুসে হাওয়া ভরা জরুরি।
শেষ আপডেট: 31 December 2025 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব মেটাতে চিনও হস্তক্ষেপ করেছে। বেজিংয়ের এই দাবির পাশাপাশি চিনের উপর নতুন বছরের শুরু থেকেই কিছু ইস্পাত পণ্যে ১১-১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপাচ্ছে নয়াদিল্লি। তিন বছরের মেয়াদে এই শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছে অর্থ মন্ত্রক। এই পদক্ষেপে চিন থেকে সস্তায় ইস্পাত আমদানির বাণিজ্যে লাগাম পরানো যাবে বলে অনুমান।
সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রথম বছরে ১২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.৫ শতাংশ ও তৃতীয় ও শেষ বছরে ১১ শতাংশ হারে শুল্ক বসাতে চলেছে ভারত। কারণ, তারপরেই নতুন করে লোকসভা ভোটে যেতে হবে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে। তার মধ্যে দেশীয় বাজারকে চাঙ্গা করতে চায় এনডিএ সরকার। কারণ, সস্তায় চিনা ইস্পাতের কারণে দেশের বড় বড় প্রস্তুতকারী সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এবং আমেরিকার শুল্কযুদ্ধের মোকাবিলা করতে এই মুহূর্তে দেশীয় বাজারের ফুসফুসে হাওয়া ভরা জরুরি। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এদিকে, বছরের শেষ লগ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায় চিনও দাবি তুলেছে যে, ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব মেটাতে তারাও মধ্যস্থ হয়েছিল। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং য়ি-র এই দাবিকে নয়াদিল্লির তরফে একেবারে উদ্ভট চিন্তাভাবনার ফসল বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কারণ, নয়াদিল্লি প্রথম থেকেই বলে এসেছে যে, পহলগাম পরবর্তী অপারেশন সিঁদুর ছিল নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক। সেই কাজ সম্পূর্ণ করার আগেই পাকিস্তানি সেনা হামলা থামাতে অনুরোধ জানিয়ে সংঘর্ষ বিরতির কথা জানায়। তারপরেই ভারতীয় বিমানবাহিনী সংযম দেখিয়েছিল। এর মধ্যে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থ হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই ছিল না।
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে গত এপ্রিল থেকে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। মে মাসে সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল দুই দেশ। টানা চার দিন ধরে সেই সংঘাত চলে। ১০ মে দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়। এর পরেই ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সংঘর্ষ থামিয়েছেন। দুই দেশকে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়ে সংঘর্ষবিরতিতে তিনিই রাজি করিয়েছেন। ভারত সরকার এই দাবি উড়িয়ে দেয় প্রথম থেকেই। নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, সামরিক স্তরে ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ এ ক্ষেত্রে স্বীকার করা হয়নি, হবেও না।
এ বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও বিদেশ মন্ত্রকের এক সূত্রের দাবি, চিনের মধ্যস্থতার দাবি সম্পূর্ণ উদ্ভট একটা ব্যাপার। কারণ, কী ট্রাম্প, কী শি জিনপিং, কারওরই পরামর্শে অপারেশন সিঁদুর থামেনি। পাকিস্তান এই সংঘর্ষ থেকে হাত তুলে নেওয়ায় ভারত আক্রমণ থামিয়েছিল।