গত মাসে লালকেল্লার অদূরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পরে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর পথে হাঁটতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 30 December 2025 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন বিদেশনীতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’ (CFR) মনে করছে, ২০২৬ সালেই ফের ভারত-পাকিস্তান (India Pakistan) সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কাশ্মীরে (Kashmir) সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রেক্ষিতে দু’টি পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে ফের উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলে তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে (India Pakistan War)।
‘কনফ্লিক্টস টু ওয়াচ ইন ২০২৬’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন করে সংঘর্ষের জন্ম দিতে পারে, যার সম্ভাবনাকে ‘মাঝারি মাত্রার ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী বছরেও অস্থির থাকতে পারে বলেই মত সিএফআর-এর (Operation Sindoor)।
উল্লেখ্য, ভারতের তরফে আগেই জানানো হয়েছে যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। গত মাসে লালকেল্লার অদূরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পরে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর পথে হাঁটতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা। তাঁর কথায়, ‘‘অপারেশন সিঁদুর-১ থেকে যে অভিজ্ঞতা পাওয়া গিয়েছে, তা ভবিষ্যতের যে কোনও অভিযানে সেনাকে আরও শক্তিশালী করবে।’’
এই প্রেক্ষাপটেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে সিএফআর-এর রিপোর্ট। গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পাল্টা জবাব হিসেবেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী শুরু করেছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। ৬ মে গভীর রাতে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ন’টি জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালানো হয়।
এর পর চার দিন ধরে সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টা জবাবে পাকিস্তানের একাধিক বায়ুসেনাঘাঁটিতে আঘাত হানে ভারত। শেষ পর্যন্ত ১০ মে দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতিতে সম্মতি তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁর মধ্যস্থতাতেই নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ সংঘর্ষবিরতিতে পৌঁছয়।
সব মিলিয়ে, কাশ্মীর পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সামরিক অভিজ্ঞতার নিরিখে ২০২৬ সালেও ভারত-পাক সম্পর্ক যে অগ্নিগর্ভ থাকতে পারে, সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে সিএফআর-এর রিপোর্ট।
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার ঘটনায় (Jammu Kashmir Terror Attack) ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই হামলার পিছনে যে পাকিস্তানের হাত রয়েছে তার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছিল ভারত। তারপর থেকেই প্রত্যাঘাতের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। মূল হামলার ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় বদলা নেয় (Operation Sindoor) ভারত।
যে সময়ে ওই পাকিস্তানে হামলা হয়েছিল, সেই সময়ে অনেকেই ঘুমের দেশে। তাই প্রত্যাঘাতের খবর অনেক পরেই সকলে জানতে পারেন। পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল ভারতের সেনাবাহিনী। ভারত কমপক্ষে ২৪টি মিসাইল ছুড়েছে বলে দাবি করা হয় পাকিস্তানের তরফে।