পাকিস্তান এলওসি বরাবর ‘সফট কিল’ ও ‘হার্ড কিল’ - দু’ধরনের অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিই ব্যবহার করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘স্পাইডার’ কাউন্টার-ইউএএস সিস্টেম, যা প্যাসিভ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেকশন ও দিকনির্ণয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছোট লয়টারিং মিউনিশন ও বড় ড্রোন শনাক্ত করতে সক্ষম বলে দাবি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 December 2025 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের 'অপারেশন সিঁদুর' (Operation Sindoor) অভিযানের আঘাতের পর স্পষ্ট অস্বস্তিতে পাকিস্তান (Pakistan)। বিষয়টি আরও পরিষ্কার কারণ জানা গেছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একের পর এক অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা মোতায়েন করছে ইসলামাবাদ (Islamabad)।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, রাওয়ালাকোট, কোটলি ও ভিম্বর সেক্টরের বিপরীতে সম্প্রতি বসানো হয়েছে একাধিক কাউন্টার-ইউএএস (C-UAS) সিস্টেম। পাক সেনার অন্দরে ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’ (Operation Sindoor 2.0) নিয়ে আশঙ্কাই এই তৎপরতার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, এলওসি বরাবর অন্তত ৩০টির বেশি বিশেষ অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট (Anti Drone Unit) নামানো হয়েছে। এই মোতায়েনের দায়িত্ব রয়েছে মুররিতে অবস্থিত পাক সেনার ১২ নম্বর ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের পাশাপাশি কোটলি–ভিম্বর অক্ষ বরাবর নিয়ন্ত্রণকারী ২৩ নম্বর ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের উপর। লক্ষ্য একটাই - এলওসি সংলগ্ন আকাশসীমায় নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষমতা আরও জোরদার করা।
সেক্টরভিত্তিক ভাবে রাওয়ালাকোট অঞ্চলে অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছে ২ নম্বর আজাদ কাশ্মীর ব্রিগেড, যারা ভারতের পুঞ্চ সেক্টরের বিপরীতে মোতায়েন। কোটলি অঞ্চলে এই দায়িত্ব সামলাচ্ছে ৩ নম্বর আজাদ কাশ্মীর ব্রিগেড, যার আওতায় রাজৌরি, পুঞ্চ, নৌশেরা ও সুন্দরবনীর বিপরীত এলাকা পড়ে। ভিম্বর সেক্টরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৭ নম্বর আজাদ কাশ্মীর ব্রিগেডকে।
পাকিস্তান এলওসি বরাবর ‘সফট কিল’ ও ‘হার্ড কিল’ (Soft and Hard Kill) - দু’ধরনের অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিই ব্যবহার করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘স্পাইডার’ (Spider System) কাউন্টার-ইউএএস সিস্টেম, যা প্যাসিভ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেকশন ও দিকনির্ণয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছোট লয়টারিং মিউনিশন ও বড় ড্রোন শনাক্ত করতে সক্ষম বলে দাবি।
এছাড়াও ব্যবহৃত হচ্ছে ‘সাফরাহ’, এটি অ্যান্টি-ইউএভি জ্যামিং গান - কাঁধে বহনযোগ্য এই অস্ত্র ড্রোনের কন্ট্রোল, ভিডিও ও জিপিএস লিঙ্ক বিঘ্নিত করতে পারে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরত্বে। এর পাশাপাশি নিচু উচ্চতায় উড়তে থাকা ড্রোন মোকাবিলায় নামানো হয়েছে ওয়েরলিকন জিডিএফ ৩৫ মিমি দ্বৈত নল অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট গান, রাডার সহায়তায় পরিচালিত ব্যবস্থা এবং আঞ্জা মার্ক-টু ও মার্ক-থ্রি ম্যানপ্যাডস।
গোয়েন্দা মহলের মতে, ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক মহড়া ও যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি - যেখানে সেনা, নৌ ও বায়ুসেনা একযোগে অংশ নিয়েছে তা পাকিস্তানের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও চিনের সঙ্গে নতুন ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা নিয়ে কথাবার্তাও চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।
উল্লেখ্য, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর গত ৭ মে সিঁদুর অভিযান শুরু করে ভারত। শুধু জঙ্গিঘাঁটি নয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতেও আঘাত হানে ভারতীয় বাহিনী। টানা তিন দিনের সংঘর্ষের পর ১০ মে যুদ্ধবিরতির জন্য ভারতের দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান।