দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সরাসরি কোনও দেশের নাম নেননি। কিন্তু স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েই পাকিস্তান এবং চিনকে তুলোধনা করেন।

অনিল চৌহান
শেষ আপডেট: 23 December 2025 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্ত্রাস (Terrorism) মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ (War) - দু’ধরনের পরিস্থিতির জন্যই ভারতকে (India) প্রস্তুত থাকতে হবে। সম্প্রতি আইআইটি বম্বের (IIT Bombay) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বার্তা দিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান (Anil Chauhan)।
দেশের নিরাপত্তা (National Security) নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সরাসরি কোনও দেশের নাম নেননি। কিন্তু স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েই পাকিস্তান (Pakistan) এবং চিনকে (China) তুলোধনা করেন। সিডিএস-এর বক্তব্যে উঠে আসে, ভারতের দু’জন প্রধান প্রতিপক্ষের কথাই - যাদের একজন পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং অন্যজন পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত। এই পরিস্থিতিতে কৌশলগত ভারসাম্য ভাঙতে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিডিএসের (CDS) কথায়, সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে স্বল্প সময়ের, অত্যন্ত তীব্র সংঘর্ষের জন্য। যার উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) মতো অভিযান। একই সঙ্গে সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধের কারণে দীর্ঘস্থায়ী, স্থলভিত্তিক যুদ্ধের প্রস্তুতিও জরুরি বলে জানান তিনি, যদিও এমন পরিস্থিতি এড়ানোর ওপরই জোর দেন।
আধুনিক যুদ্ধের চরিত্র নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন জেনারেল চৌহান। তাঁর মতে, সামরিক কৌশল এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যাকে তিনি ‘কনভার্জেন্স ওয়ারফেয়ার’ বা সমন্বিত যুদ্ধপরিস্থিতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি (Quantum Technology), এজ কম্পিউটিং, হাইপারসনিক অস্ত্র, উন্নত উপাদান বিজ্ঞান ও রোবোটিক্স - এই সমস্ত প্রযুক্তির সম্মিলিত প্রভাব যুদ্ধের ধরন আমূল বদলে দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
ভবিষ্যতের যুদ্ধ আর একক ক্ষেত্রনির্ভর থাকবে না বলেও স্পষ্ট করেন জেনারেল চৌহান। স্থল, আকাশ, নৌ, সাইবার, মহাকাশ এমনকি ‘কগনিটিভ ডোমেন’ - সব ক্ষেত্র একসঙ্গে ব্যবহার করাই হয়ে উঠবে অপরিহার্য। এই বাস্তবতা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলেও জানান সিডিএস।
তাঁর দাবি, মাত্র চার দিন স্থায়ী ওই সংঘর্ষে একযোগে সব যুদ্ধক্ষেত্র সক্রিয় ছিল এবং উচ্চ গতিতে অভিযান চালিয়ে ভারত সাফল্য অর্জন করে। ভবিষ্যতে এমন অভিযানের জন্য সেনা, নৌ ও বায়ুসেনার পাশাপাশি সাইবার ও মহাকাশ শক্তির মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে বলেও তাঁর মত।