বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনীতির সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। এই সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটানো সম্ভব একমাত্র ‘সার্জারি’ চালিয়ে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, বিশেষত উত্তর-পূর্বের ক্ষেত্রে।
শেষ আপডেট: 23 December 2025 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সোমবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনীতির সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। এই সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটানো সম্ভব একমাত্র ‘সার্জারি’ চালিয়ে। নিউজ এইটটিনের রাইজিং অসম এনক্লেভে একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, বিশেষত উত্তর-পূর্বের ক্ষেত্রে।
শিলিগুড়ি করিডর, যাকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চিকেন করিডর বলে থাকে, সেই অঞ্চলকে দেশের বৃহত্তম কৌশলগত উদ্বেগের জায়গা বলে ব্যাখ্যা করেন হিমন্ত। তাঁর পরামর্শ, এই অঞ্চলের সুরক্ষার জন্য ভারতকে আরও ২০-২২ কিমি এলাকা দখলে নিতে হবে। তা সে কূটনীতির মাধ্যমে হোক, কিংবা বলপূর্বক কেড়ে নিতে হবে। তিনি ডাক্তারি পরিভাষায় বলেন, যখন ওষুধে আর কোনও কাজ না হয়, তখন স্থায়ী বেদনা নিরাময়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।
চিকেন নেক নিয়ে বিশ্বশর্মা বলেন, এটা একটি অসম্পূর্ণ এজেন্ডা। তবে আমাদের অধৈর্য হলে চলবে না, ইতিহাস নিজেই সময় তৈরি করে নেয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছে, এই দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহম্মদ ইউনুস সরকার আর বেশিদিন নেই। বর্তমান জমানা পড়শি দেশে যে অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তা ভারতের পক্ষে খুবই বিপজ্জনক। বিশেষত সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির পক্ষে।
১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধীর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ নিয়েও কংগ্রেসকে একহাত নেন হিমন্ত। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষে ভারত চিকেন নেকের সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে বাংলাদেশের কাছে কিছুটা জমি চেয়ে নিতে পারত। সেটা না হয়, সেই সময় থেকে এই করিডর নিয়ে আমাদের পড়শিদের হুঁশিয়ারি শুনতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশভাগের সময় কংগ্রেসের নীতির কারণেই বহু হিন্দু পূর্ব পাকিস্তানে থেকে গিয়েছে। তেমনই অনেকে ভারতে থেকে যাওয়া বাঞ্ছনীয় মনে করেছে।
বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের কড়া নিন্দা করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বলেন, অসমের ৪০ শতাংশ মানুষ আদতে বাংলাদেশি। স্বাধীনতার আমলে যা ছিল মাত্র ১০-১৫ শতাংশ। এই অবস্থায় বসবাস করাকে বারুদের স্তূপে দাঁড়িয়ে থাকা বলে ব্যাখ্যা করেন। ২০২৭ সালে জনগণনা হলে অসমে হিন্দু-মুসলিম জনবসতি সমান সমান হয়ে যাবে। এই জনসংখ্যার পরিবর্তনে রাজ্য শাসন করাই মুশকিল হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্ষেত্রেও তিনি বলেন, হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে। সুতরাং, ভারতও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আর সমান চোখে থাকতে পারে না। দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতেই হবে।