প্রাথমিক গবেষণার পর চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই দুই ভ্যারিয়েন্ট আগের তুলনায় বেশি ছোঁয়াচে এবং এদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি।

ছবিটি প্রতীকী
শেষ আপডেট: 26 May 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনা ভাইরাস। নতুন করে সামনে এসেছে কোভিডের দু'টি সাব ভ্যারিয়েন্ট NB.1.8.1 এবং LF.7। এই দুই সাব ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন প্রজাতির। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাতে পরীক্ষায় এই দুই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গিয়েছে।
ভারত সরকারের জিনোম সিকোয়েন্সিং সংস্থা INSACOG-এর তথ্য অনুযায়ী, NB.1.8.1 ভ্যারিয়েন্টের একটি কেস এপ্রিল মাসে তামিলনাড়ুতে প্রথম শনাক্ত হয়েছে। অপরদিকে, LF.7 ভ্যারিয়েন্টের চারটি কেস গুজরাতে মে মাসে ধরা পড়ে।
সবচেয়ে সাম্প্রতিক সংক্রমণ ধরা পড়েছে উত্তরপ্রদেশের নয়ডায়। এক ৫৫ বছর বয়সি মহিলা কোভিড পজিটিভ হন, তিনি ট্রেনে যাত্রা করেছিলেন সংক্রমিত হওয়ার আগে। তাঁকে বর্তমানে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানিয়েছেন গৌতম বুদ্ধ নগরের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডঃ নরেন্দ্র কুমার।
এছাড়া এইমস ঋষিকেশ-এও তিনজন কোভিড আক্রান্তের খবর মিলেছে। তাঁদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন, বাকি দু'জন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট কতটা বিপজ্জনক?
এইমস ঋষিকেশের ডিরেক্টর ডঃ মীনু সিং জানিয়েছেন, এই ভ্যারিয়েন্টটি খুব একটা ক্ষতিকারক নয়, তবে যাঁদের কোমর্বিডিটি রয়েছে তাঁদের সতর্ক থাকতে হবে।
NB.1.8.1 ও LF.7—দুটিই JN.1 ভ্যারিয়েন্টের সাব ভ্যারিয়েন্ট, যা বর্তমানে ভারতে ছেয়ে গেছে এবং সমস্ত সংগৃহীত নমুনার ৫৩ শতাংশই এই ভ্যারিয়েন্টের অন্তর্গত। এই দুই নতুন ভ্যারিয়েন্টকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ‘ভ্যারিয়েন্টস আন্ডার মনিটরিং’-এর তালিকায় রেখেছে। অর্থাৎ এই ভ্যারিয়েন্টগুলিতে এমন কিছু জিনগত পরিবর্তন রয়েছে যা ভাইরাসের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে এখনই এগুলিকে উদ্বেগজনক বা গুরুত্বপূর্ণ ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে না।
কতটা ছোঁয়াচে এই ভ্যারিয়েন্ট?
প্রাথমিক গবেষণার পর চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই দুই ভ্যারিয়েন্ট আগের তুলনায় বেশি ছোঁয়াচে এবং এদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। NB.1.8.1-এ A435S, V445H এবং T478I নামক স্পাইক প্রোটিন মিউটেশন রয়েছে, যেগুলি সংক্রমণ ছড়ানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
JN.1 নিজেই L455S মিউটেশন বহন করে, যা আগের ভ্যারিয়েন্টগুলির তুলনায় ১.৫ গুণ বেশি সংক্রামক। তবে আশার খবর, এই ভ্যারিয়েন্টগুলোর ফলে এখনও পর্যন্ত তেমন গুরুতর অসুস্থত কেউ হয়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডঃ অরূপ হালদার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীরা হালকা উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন এবং হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা খুবই কম। এই সংক্রমণের বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হচ্ছে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতার কমে যাওয়া। বুস্টার ডোজ না নেওয়া এবং পর্যবেক্ষণ না করা।
১৯ মে পর্যন্ত দেশে মোট ২৫৭টি সক্রিয় করোনা কেস ছিল। এর মধ্যে কেরল, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ু রাজ্যগুলি হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শুধু কেরলেই মে মাসে ২৭৩টি কেস পাওয়া গেছে। দিল্লিতেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের হার। এক সপ্তাহে আক্রান্ত ৯৯ জন। দেশে সংক্রমিতের সংখ্যা ছুঁল ১০০০।
দিল্লি সরকার ইতিমধ্যেই হাসপাতালগুলোকে পর্যাপ্ত সংখ্যক বেড, অক্সিজেন, ওষুধ এবং ভ্যাকসিন মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও এপর্যন্ত ভারতে নতুন ভ্যারিয়েন্টের জন্য ভ্যারিয়েন্ট-নির্দিষ্ট কোনও টিকা নেই, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বর্তমান বুস্টার ডোজ এখনও কার্যকর।
ডঃ হালদার জানান, এই বুস্টারগুলি উপসর্গযুক্ত সংক্রমণের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত এবং গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।
সতর্কতা বজায় রেখে, টিকাকরণ সম্পূর্ণ করে এবং সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই আপাতত নতুন ভ্যারিয়েন্টের মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।