যদিও, তেজস্বীর তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) নেতা তেজস্বী যাদব
শেষ আপডেট: 3 August 2025 23:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়টা বিশেষ ভাল যাচ্ছে না রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) নেতা তেজস্বী যাদবের। একে তো গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশন যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে তাঁর নামই নেই। এবার যে অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে, তাতে আরও বিপাকে পড়লেন বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।
দু’টি ভোটার আইডি কার্ড আছে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) নেতা এবং বিহার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের, এমন গুরুতর এক অভিযোগ উঠেছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানাল এনডিএ (NDA)। রবিবার, ৩ অগস্ট (২০২৫) পাটনায় এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এই দাবি তোলা হয়।
বিজেপির মুখপাত্র অজয় অলোক, জেডিইউ-র মুখ্য মুখপাত্র নীরজ কুমার, লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস)-এর রাজেশ ভাট, হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা-সেক্যুলার-এর শ্যাম সুন্দর এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার নীতিন ভারতী - এঁরা সবাই যৌথভাবে এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ দানিশ ইকবালও উপস্থিত ছিলেন।
তাঁদের দাবি, তেজস্বী যাদবের নামে দু’টি পৃথক ভোটার আইডি রয়েছে, যা নির্বাচন আইন অনুযায়ী অপরাধ। তাই তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে মামলা রুজু করা হোক।
যদিও, তেজস্বীর তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা তথা দলের সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী আগেই জানিয়েছিলেন, শুক্রবার নির্বাচন কমিশন যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে তাঁরই নাম নেই। পাটনায় সাংবাদিকদের সামনে বলেন, তিনি বিশেষ সংশোধনী অভিযানের সময় গণনা ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, তাঁর নামই নেই ভোটার হিসেবে। তাঁর প্রশ্ন, এখন আমি কী করে আসন্ন বিধানসভা ভোটে লড়াই করব?
লালুপুত্রের আরও অভিযোগ, প্রতিটি বিধানসভা ক্ষেত্র থেকে অন্ততপক্ষে ২০ থেকে ৩০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। মোট ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অর্থ ৮.৫ শতাংশ ভোটারের নাম নেই। কিন্তু, যখন ভোটার তালিকা আমাদের কাছে দেওয়া হল, তাতে দেখা গেল নির্বাচন কমিশন চালাকি করে কোনও ভোটারের ঠিকানা, বুথ নম্বর ও এপিক নম্বর দেয়নি। ফলে আমরা খুঁজেই পাচ্ছি না যে, আমাদের নাম তালিকায় আছে না কেটে দেওয়া হয়েছে, বলেন তেজস্বী।
তেজস্বী যাদবের অভিযোগের জবাবে কমিশন জানিয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। কমিশন তাঁর দাবি খণ্ডন করতে পাল্টা একটি তালিকা প্রকাশ করে দেখিয়ে দিয়েছে যে তেজস্বী যাদবের নাম রয়েছে। কমিশন বলেছে, তাঁর ক্রমিক নম্বর ৪১৬। হাউস নম্বর ১০। এপিক নম্বরও দিয়ে দিয়েছে কমিশন। কমিশনের দাবি, তেজস্বী যাদব তাঁর পুরনো এপিক নম্বর দিয়ে খুঁজেছেন নিশ্চই। সেকারণেই তিনি তাঁর বিস্তারিত তথ্য পাননি।
সব মিলিয়ে বিহার এখন সরগরম, রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।