কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সংস্থা ক্লাস এইটের সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের জন্য প্রকাশিত ওই বইয়ে সুপ্রিম কোর্টের দুটি মামলার রায়ের তীব্র সমালোচনা রয়েছে। একটি হল, ইলেক্টোরাল বন্ড। বলা হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির অর্থ সংগ্রহে স্বচ্ছতা ফেরাতে কেন্দ্রীয় সরকার ইলেক্টোরাল বন্ড চালু করেছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই বন্ড বাতিল করে দিয়েছে।

শেষ আপডেট: 24 February 2026 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশন্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (NCERT) সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ে ভারতের বিচার ব্যবস্থার (Indian jucial system) রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পর্যন্ত বিপুল বকেয়া মামলার সংখ্যা তুলে ধরে বলা হয়েছে বিচারে বিলম্ব আসলে বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া (justice delayed is justice denied)।
কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সংস্থা ক্লাস এইটের সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের জন্য প্রকাশিত ওই বইয়ে সুপ্রিম কোর্টের দুটি মামলার রায়ের তীব্র সমালোচনা রয়েছে। একটি হল, ইলেক্টোরাল বন্ড। বলা হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির অর্থ সংগ্রহে স্বচ্ছতা ফেরাতে কেন্দ্রীয় সরকার ইলেক্টোরাল বন্ড চালু করেছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই বন্ড বাতিল করে দিয়েছে।
দ্বিতীয় যে রায়ের সমালোচনা বইটিতে রয়েছে তা হল, তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংক্রান্ত। বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি সংশোধন করে ইন্টারনেট মাধ্যমে আপত্তিজনক পোস্ট আটকাতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করেছিল। শীর্ষ আদালত তাতেও আপত্তি তুলে সেটি বাতিল করে দিয়েছে। এনসিআরটি'র এই বই নিয়ে শিক্ষা থেকে রাজনীতি সব মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এনসিআরটি কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে অস্বীকার করেছে।
ওই সংস্থার ক্লাস এইটের সোশ্যাল সায়েন্সের বইয়ে বিচার ব্যবস্থার গুরুত্ব বিষয়ক একটি অধ্যায় গত বছর পর্যন্ত ছিল। সোমবার নতুন যে বই প্রকাশিত হয়েছে তাতে রয়েছে বিচার ব্যবস্থার নানা দিক সম্পর্কে সমালোচনা। তার মধ্যে বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ওয়াকিবহালমহল মনে করছে। যদিও বিষয়টি এমন নয় যে বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি নিয়ে বিচারপতিরা কম উদ্বিগ্ন। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এজলাসে বসেই বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। দিল্লি হাইকোর্টের একজন বিচারপতির বাড়ি থেকে বিপুল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তাঁকে সংসদে অভিশংসন বা ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এনসিআরটি'র নতুন বইয়ে বকেয়া মামলার বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশের নিম্ন আদালত গুলিতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা চার কোটি ৭০ লাখ। ৬২ লাখ চল্লিশ হাজার মামলা বিচারাধীন দেশের হাইকোর্ট গুলিতে। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে ৮১ হাজার মামলার পাহাড় জমে আছে।