অধিবেশনের শুরুতেই সরব হন কংগ্রেস বিধায়ক মহেশ পারমার। তাঁর সোজাসুজি প্রশ্ন, কেন নতুন যোগ্য মহিলাদের নাম তোলার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে?

উত্তাল মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা
শেষ আপডেট: 23 February 2026 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিশ্রুতি ছিল ভাতার অঙ্ক ৩০০০ টাকা করার, কিন্তু বাস্তবে তা আপাতত ১৫০০ টাকাতেই থমকে। নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার পোর্টালও খোলেনি। এই দুই ইস্যুতেই সোমবার মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় (Madhya Pradesh) নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী থাকল শাসক ও বিরোধী পক্ষ। কংগ্রেসের (Congress) তোপের মুখে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবকে (cm mohan yadav) আসরে নামতে হলেও, রাজকোষের ‘হাড়হাভাতে’ দশা ঢাকতে ঘাম ছুটল মন্ত্রীদের।
‘ভাতা কই, কাজ কই?’
অধিবেশনের শুরুতেই সরব হন কংগ্রেস বিধায়ক মহেশ পারমার। তাঁর সোজাসুজি প্রশ্ন, কেন নতুন যোগ্য মহিলাদের নাম তোলার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে? বিরোধী দলনেতা উমঙ্গ সিঙ্ঘার থেকে শুরু করে বিধায়ক সতীশ শিকারওয়াররা দাবি তোলেন, অবিলম্বে সামাজিক সুরক্ষা পেনশন ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ১২০০ করতে হবে এবং লাডলি বহনাদের (Ladli Behna) ভাতা দ্বিগুণ করতে হবে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের আগে বড় বড় কথা বললেও এখন সাধারণ মহিলাদের বঞ্চিত করছে বিজেপি।
সরকারের রক্ষণাত্মক মেজাজ
পাল্টা জবাবে নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী নির্মলা ভুরিয়া জানান, বর্তমান উপভোক্তারা নিয়মিত টাকা পাচ্ছেন। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন শুরু করা বা ভাতার অঙ্ক ৩০০০ টাকা করার কোনও প্রস্তাব সরকারের কাছে নেই। সামাজিক ন্যায় বিচার মন্ত্রী নারায়ণ সিং কুশওয়াও স্বীকার করে নিয়েছেন, রাজ্যের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব অবশ্য রাজনীতির মোড়ক দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিরোধীদের খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা বলেছিলেন এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু তা তো চলছেই। ২০২৮ সালের মধ্যে আমরা ৩০০০ টাকার লক্ষ্যে পৌঁছবই।” তবে নতুন রেজিস্ট্রেশন কবে হবে, সে নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ তিনি দিতে পারেননি। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান কংগ্রেস বিধায়করা।
কোষাগারে টান, ঋণজালের ছায়া
মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই ‘সাবধানি’ পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ৪.৬৪ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল ঋণ। বছরে কেবল সুদ মেটাতেই বেরিয়ে যাচ্ছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। মাসে ১,৮৫০ কোটি টাকা খরচ করে বর্তমানে ১ কোটি ২৫ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে প্রায় ৫.৭ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের খরচ ২২ হাজার কোটি ছাড়ানোর আশঙ্কা থাকায় নতুন উপভোক্তা নিতে কার্যত হাত গুটিয়ে নিয়েছে প্রশাসন।
বিতর্কের নতুন মাত্রা
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে দুই মন্ত্রীর মন্তব্যে। রাজস্ব মন্ত্রী করণ সিং বর্মা সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ না দিলে নাম কাটা যেতে পারে। আবার মন্ত্রী বিজয় শাহের নিদান, মহিলারা যেন এই ভাতার বদলে ‘রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা’ দেখান।