সকালেই বেঙ্গালুরু থেকে আসা একটি ইন্ডিগো উড়ান দিয়ে শুরু হয় বিমানবন্দরের বাণিজ্যিক পরিষেবা। রানওয়েতে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় প্রথম উড়ানটিকে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 December 2025 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে (Maharastra) বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করল নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (NMIA)। বহু বছর ধরে পরিকল্পনা ও নির্মাণের পর চালু হওয়া এই বিমানবন্দরকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এক আন্তর্জাতিক এভিয়েশন গেটওয়ে হিসেবে তুলে ধরছে কর্তৃপক্ষ।
সকালেই বেঙ্গালুরু (Bengaluru) থেকে আসা একটি ইন্ডিগো (Indigo) উড়ান দিয়ে শুরু হয় বিমানবন্দরের বাণিজ্যিক পরিষেবা। রানওয়েতে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার স্যালুটের (Water Canon Salute) মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় প্রথম উড়ানটিকে।

এই বিমানবন্দরকে ঘিরে যে বিশাল পরিকল্পনা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তা বোঝাতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হল -
১) দেশের অন্যতম বৃহৎ বিমানবন্দর
নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিস্তৃত প্রায় ২ হাজার ৮৬৬ একর জমির উপর। তুলনায় একটি ফুটবল মাঠের (Football Field) আয়তন গড়ে প্রায় ১.৭ একর - অর্থাৎ গোটা বিমানবন্দরটি প্রায় ১ হাজার ৬৫০টি ফুটবল মাঠের সমান জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে। দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দর প্রকল্পগুলির মধ্যে এটি অন্যতম।
২) বছরে ৯ কোটি যাত্রী পরিবহণের লক্ষ্য
সবকটি ধাপ সম্পূর্ণ হলে বছরে প্রায় ৯ কোটি যাত্রী (9 Crores Passengers) পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে NMIA-র। এর ফলে মুম্বই মহানগর অঞ্চলের এভিয়েশন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে এবং ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপর চাপ অনেকটাই কমবে।
৩) সম্পূর্ণ নতুন গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর
নবি মুম্বই বিমানবন্দর একেবারে শূন্য থেকে গড়ে তোলা গ্রিনফিল্ড প্রকল্প। প্রথম ধাপে প্রায় ১৯ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে পরিকাঠামো। মোট পাঁচটি ধাপে এই বিমানবন্দর সম্পূর্ণ রূপ পাবে। জমি উন্নয়ন থেকে শুরু করে রানওয়ে ও টার্মিনাল - সবই নতুন করে নির্মিত।
৪) মুম্বইয়ের নতুন বৈশ্বিক এভিয়েশন গেটওয়ে
নবি মুম্বইয়ের কৌশলগত অবস্থান এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। দু’টি সমান্তরাল রানওয়ে, আধুনিক টার্মিনাল ও উন্নত কার্গো পরিকাঠামো গড়ে উঠলে বাণিজ্য, পর্যটন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে।
৫) পদ্ম-অনুপ্রাণিত স্থাপত্য
বিমানবন্দরের টার্মিনালের নকশা অনুপ্রাণিত ভারতের জাতীয় ফুল পদ্ম থেকে। আধুনিক স্থাপত্য, সাংস্কৃতিক প্রতীক ও পরিবেশবান্ধব নকশার সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে এই টার্মিনাল।
প্রথম বাণিজ্যিক উড়ান ও যাত্রী পরিষেবার মাধ্যমে নির্মাণ পর্ব শেষ করে কার্যকরী পর্যায়ে প্রবেশ করল নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের উড়ানের যাত্রাপথে একটি গর্বের মাইলফলক।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে মহারাষ্ট্রের সিডকো (CIDCO) এই গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের পরিকল্পনা করেছিল। তবে জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং কোভিড অতিমারির কারণে প্রকল্প বারবার পিছিয়েছে। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন এবং চলতি বছরের ৮ অক্টোবর বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
২০২১ সাল থেকে আদানি এয়ারপোর্টস হোল্ডিংস লিমিটেড এই প্রকল্পের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। সংস্থার দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুত নির্মাণ পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে বাণিজ্যিক পরিচালনায় নিয়ে আসা হয়েছে বিমানবন্দরটিকে।