“আপনারা তো আগে থেকেই নগ্ন, তবে কেন নতুন করে পোশাক খোলার প্রয়োজন মনে করলেন?” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে দেশের প্রাচীনতম দলটি এখন কতটা ‘আদর্শগতভাবে দেউলিয়া’ এবং ‘দরিদ্র’ হয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 22 February 2026 15:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনে যুব কংগ্রেসের জামা খুলে (Congress AI Summit Protest) প্রতিবাদ নিয়ে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রবিবার উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মিরাটে এক জনসভা থেকে কংগ্রেসকে বিঁধে তিনি বলেন, “আপনারা তো আগে থেকেই নগ্ন, তবে কেন নতুন করে পোশাক খোলার প্রয়োজন মনে করলেন?” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে দেশের প্রাচীনতম দলটি এখন কতটা ‘আদর্শগতভাবে দেউলিয়া’ এবং ‘দরিদ্র’ হয়ে পড়েছে।
‘দেশের সাফল্য হজম হচ্ছে না’
শুক্রবার ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এআই সামিটে হঠাৎই ঢুকে পড়ে জামা খুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন একদল যুব কংগ্রেস কর্মী। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছিলেন তাঁরা। সেই প্রসঙ্গ টেনেই মোদী এদিন বলেন, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম এআই কনফারেন্স আয়োজন করল, কিন্তু কংগ্রেস ও তার ইকোসিস্টেম কী করল? দেশের সাফল্য কিছু রাজনৈতিক দল হজম করতে পারছে না। নিজের দেশকে কালিমালিপ্ত করতেই ব্যস্ত ওরা। ভারতের জন্য গর্বের একটি বিশ্বজনীন মঞ্চকে ওরা নোংরা রাজনীতির আখড়া বানিয়ে ছাড়ল।”
‘বিজেপির অনুষ্ঠান ছিল না’
বিক্ষোভের দিন সভাস্থলে বিজেপির কোনও নেতা উপস্থিত ছিলেন না, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস নেতারা আমাকে ঘৃণা করেন। তাঁরা আমার কবর খুঁড়তে চান, এমনকি আমার মা-কেও অপমান করতে ছাড়েন না। কিন্তু তাঁদের মনে রাখা উচিত ছিল যে, ওই সামিটটি বিজেপির কোনও ঘরোয়া অনুষ্ঠান ছিল না। ওটা ছিল জাতীয় কাজ। কংগ্রেস সেই দিন সমস্ত শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘন করেছে। ওদের এই কলুষিত নীতিকে গোটা দেশ ধিক্কার জানাচ্ছে।”
শ্রীঘরে চার বিক্ষোভকারী
প্রসঙ্গত, শুক্রবারের ওই ঘটনায় কৃষ্ণা হরি, কুণ্ডন যাদব, অজয় কুমার এবং নরসিংহ যাদব নামে চার যুব কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতরা জাতীয় ও রাজ্যস্তরের পদাধিকারী। শনিবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই প্রতিবাদের নেপথ্যে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিদেশের প্রতিনিধি ও প্রযুক্তি কর্তাদের সামনে যুব কংগ্রেসের এই ‘উগ্র’ প্রতিবাদকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী আসলে ছাব্বিশের ভোটের আগে দেশপ্রেম ও জাতীয় অস্মিতার তাসটিই খেলে দিলেন।