এআই সামিটের আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুব কংগ্রেসের ‘শার্টলেস’ বিক্ষোভ ঘিরে তুমুল বিতর্ক। এবার সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করলেন অখিলেশ যাদব।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 22 February 2026 09:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে (AI Impact Summit) ভারতীয় যুব কংগ্রেসের ‘শার্টবিহীন’ বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হল। এবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। শনিবার ঝাঁসিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সমাজবাদী পার্টি প্রধান তথা INDIA জোটের শরিক এই নেতা স্পষ্ট বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এ ধরনের আচরণ দেশের জন্য ‘লজ্জাজনক’।
অখিলেশের কথায়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার প্রকাশেরও একটি সীমা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে। গোটা দেশ জানে বিজেপি মিথ্যা বলে। কিন্তু বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে দেশের সম্মানহানি হয়— এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।” তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ধরনের বিক্ষোভ দেশের ভাবমূর্তিকে আঘাত করতে পারে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপম-এ আয়োজিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিট চলাকালীন ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস-এর কর্মীরা ‘শার্টবিহীন’ অবস্থায় বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের হাতে ছিল প্রতিবাদমূলক বার্তা লেখা টি-শার্ট এবং তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র বিরুদ্ধে স্লোগানও তোলেন। এই ঘটনার পরই শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক তরজা। পুদুচেরি ও ইন্দোরে বিজেপি এবং কংগ্রেস সমর্থকদের মধ্যে পাল্টা বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে আসে।
#WATCH | Jhansi, UP: On Congress Protest at AI summit, Samajwadi Party Chief Akhilesh Yadav says, "... We may have internal rifts, but what Congress did on the global platform was not appropriate. They should have refrained from doing something that brings shame to our country in… pic.twitter.com/pdT4P4n21z
— ANI (@ANI) February 21, 2026
এর আগেই বিজেপির তরফে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসকে আক্রমণ করা হয়েছিল। বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং যুব কংগ্রেসকে ‘ভারতবিরোধী’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, “তাঁরা গণতন্ত্রের নিয়ম ভেঙেছেন। তাঁরা কি মোদীর বিরোধিতা করছেন, না দেশের বিরোধিতা করছেন? মোদীর বিরোধিতা করতে গিয়ে তাঁরা দেশের বিরোধিতা শুরু করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বদনাম করছেন।”
তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব যুব কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়েছে। কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বলেন, প্রতিবাদের ধরন নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে, কিন্তু অনুষ্ঠানে চিনা পণ্যের উপস্থিতি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই বিজেপির অস্বস্তি হওয়া উচিত। একই সুর শোনা গেছে কর্ণাটকের আরেক মন্ত্রী ঈশ্বর খান্ড্রে-র গলাতেও। তাঁর মতে, প্রতিবাদ করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং কেন্দ্রের নীতির বিরোধিতা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার পর পুলিশ চার জন যুব কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার পাতিয়ালা হাউস আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যে সহজে কমছে না, তা স্পষ্ট।