এই ঘটনার পর থেকেই মুজফ্ফরনগরের বিভিন্ন গ্রামে চলছে অবধেশকে নিয়ে প্রশংসা। স্থানীয়দের কথায়, সমাজে নানা কূপমণ্ডূকতা থাকলেও এমন উদ্যোগই নতুন বার্তা দেয়।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 28 November 2025 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর (Uttar Pradesh Muzaffarnagar) থেকে উঠে এল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পণের চাপে যেখানে রোজ বিয়ে ভেঙে যাওয়ার খবর উঠে আসে, যে বিষয়টি নিয়ে এখনও বহু পরিবার ভয় এবং দুশ্চিন্তায় থাকে, সেখানে ২৬ বছরের অবধেশ রানা নিজের বিয়ের আসরেই তৈরি করলেন অন্য ছবি। ৩১ লক্ষ টাকার পণ (31 Lakh Dowry) ফেরত দিয়ে মাত্র ১ টাকা গ্রহণ করলেন তিনি! তাও, প্রতীকী শুভেচ্ছা হিসেবে।
বিয়ের অনুষ্ঠান (Marriage Ceremony) ঘিরে গ্রামের উঠোনে যখন উৎসবের আবহ, তখনই সকলকে চমকে দেন বর। অনুষ্ঠানের প্লেটে সাজানো টাকার কাছে হাতজোড় করে অবধেশ শান্ত গলায় জানান, “এটা নেব না। এই টাকা কনের পরিবারের পরিশ্রমের ফসল। আমার কোনও অধিকার নেই।” মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় আসর। তারপরই শুরু হয় হাততালির ঝড়।
কনে অদিতি করোনা মহামারিতে (Covid-19) বাবাকে হারিয়েছিলেন। তারপর থেকেই তিনি ও ছোট ভাই অনুভব থাকেন মামারবাড়ি, সুলতানপুর জেলার শাহাবুদ্দিনপুর গ্রামে। স্নাতকোত্তর শেষ করার পরই তাঁর বিয়ে ঠিক হয় অবধেশের সঙ্গে। বরের সিদ্ধান্তে প্রথম থেকেই সমর্থন জানায় তাঁর পরিবার। অদিতির পরিবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, এমন সময় এমন আচরণ তাঁদের কাছে আশীর্বাদের মতো।
সকলের সামনে পণের টাকা ফেরত দেওয়ার পর বিয়ের (Marriage) পরিবেশ যেন আরও উজ্জ্বল হয়। মাল্যদান, কন্যাদান - সব রীতিই সম্পন্ন হয় শান্ত ও আবেগঘন আবহে। অদিতির মুখের হাসি বলে দিচ্ছিল, এই বিয়ে তাঁদের কাছে অতিরিক্ত মর্যাদার প্রতীক হয়ে থাকল।
এই ঘটনার পর থেকেই মুজফ্ফরনগরের (Muzaffarnagar) বিভিন্ন গ্রামে চলছে অবধেশকে নিয়ে প্রশংসা। স্থানীয়দের কথায়, সমাজে নানা কূপমণ্ডূকতা থাকলেও এমন উদ্যোগই নতুন বার্তা দেয়।
স্পষ্টত বলা যায়, অবধেশের এই পদক্ষেপ এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সমাজে পণপ্রথার বিরুদ্ধে যে আরও দৃঢ় প্রতিরোধ দরকার - এই বিয়ে সেই বার্তাই পুনরায় উচ্চারিত করল।