কাশ্মীরের অনন্তনাগ মেডিক্যাল কলেজে সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করার পরে চলতি বছরের মার্চে সাহারানপুরের একটি হাসপাতালে যোগ দিয়েছিলেন আদিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সে সময় যে অর্থের জন্য তিনি এত তাড়া দিচ্ছিলেন, তারই একটি অংশ বিস্ফোরণের তহবিলে ব্যবহার করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 November 2025 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার (New Delhi Red Fort) কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের (Car Blast) ঠিক দু-মাস আগে থেকেই টাকার জন্য মরিয়া ছিলেন অভিযুক্ত চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাঠার। এনআইএ–র (NIA) হাতে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে (Whatsapp Chat) দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তিনি বারবার অগ্রিম বেতন চেয়ে (Advance Salary) অনুরোধ করেছেন হাসপাতালের এক ঊর্ধ্বতন কর্তাকে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সে সময় যে অর্থের জন্য তিনি এত তাড়া দিচ্ছিলেন, তারই একটি অংশ বিস্ফোরণের তহবিলে ব্যবহার করা হয়েছে।
কাশ্মীরের (Kashmir) অনন্তনাগ মেডিক্যাল কলেজে সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করার পরে চলতি বছরের মার্চে সাহারানপুরের একটি হাসপাতালে যোগ দিয়েছিলেন আদিল। স্থিতিশীল আয়ের চাকরি থাকা সত্ত্বেও ৫ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁর একের পর এক বার্তা - 'ডাইর নিড অফ মানি', 'প্লিজ ক্রেডিট মাই স্যালারি' মেসেজগুলি তদন্তে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
এনআইএ (NIA) সূত্রের দাবি, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত মোট ২৬ লক্ষ টাকার মধ্যে ৮ লক্ষ টাকা জোগান দিয়েছিলেন আদিল নিজেই। জেরায় অপর এক অভিযুক্ত ডা মুজাম্মিল শাকিল জানান, দলটির ভিতরে আদিলকে ডাকা হত 'ট্রেজারার' নামে। এর থেকেই অনুমান, বিস্ফোরণের সরঞ্জাম কেনার জন্যই টাকার দাবি করেছিলেন তিনি।
দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় (Delhi Blast) এখন পর্যন্ত চার মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে সংস্থা - পুলওয়ামার ডা মুজাম্মিল শাকিল গণাই, অনন্তনাগের ডা আদিল আহমেদ রাঠার, লখনউ–এর ডা শাহিন সাইদ এবং শোপিয়ানের মুফতি ইরফান ওয়াগায়। তদন্তকারীরা বলছেন, শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই দলটি ছিল এক ধরনের - হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক (White Collar Terror Network)।
হুন্ডাই আই–২০ গাড়িতে বিস্ফোরক ভরে লালকেল্লার (Red Fort) কাছে ব্যস্ত রাস্তায় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনাস্থলে প্রাণ যায় ১৫ জনের, বহু মানুষ আহত হন। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে ফারিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al-Falah University) থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই সামনে আসে বহু–রাজ্যে ছড়ানো গোটা মডিউলের নকশা।
অনন্তনাগ মেডিকেল কলেজের পুরনো লকার থেকে আদিলের AK–56 রাইফেল এবং গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে ফারিদাবাদের একাধিক ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক এবং অস্ত্র উদ্ধার হয়।
এ ঘটনার জেরে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন আদিলসহ চার চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে। জম্মু–কাশ্মীর মেডিক্যাল কাউন্সিল আগেই তাঁদের নাম রেজিস্ট্রি থেকে বাদ দিয়েছিল।
বর্তমানে এনআইএ হেফাজতেই রয়েছেন আদিল। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, দিল্লির ভয়াবহ হামলার পেছনে যে নেটওয়ার্ক কাজ করেছে, সেই চক্রের প্রত্যেক সদস্যকে চিহ্নিত করা।