ঘটনাটি ঘটে যখন সাহিল বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সামনাসামনি ধাক্কা লাগে একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও এসইউভি-র সঙ্গে। গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ছিল ১৭ বছরের এক কিশোর।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 February 2026 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির দ্বারকার একটি পথদুর্ঘটনা (Delhi Car Accident) মুহূর্তে তছনছ করে দিয়েছে এক মায়ের জীবন। ২৩ বছরের সাহিল ধনেশরার (Sahil Dhansera Death) মৃত্যু ফের সামনে এনেছে নাবালকদের গাড়ি চালানোর ভয়াবহতা। অভিযুক্ত ১৭ বছরের কিশোরের বাবার প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনাও মন গলাতে পারেনি সাহিলের মা ইননা মাকানের।
এক সংবাদমাধ্যমে অভিযুক্তের বাবা বলেন, তিনি অত্যন্ত দুঃখিত। সেই প্রসঙ্গে ইননা মাকানের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। তাঁর প্রশ্ন, “কিসের জন্য দুঃখিত? আমার জীবন শেষ করে দেওয়ার জন্য? আমি মিডিয়ায় কথা বলার পর দুঃখ প্রকাশ করছেন?” তাঁর কথায়, একটি ‘সরি’ তাঁর ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। ছেলের ছবির পাশে বসে তিনি বলেন, “আমার আর সকাল নেই, সন্ধে নেই। কাজে যাওয়ার কারণ নেই, ঘুম থেকে ওঠার কারণ নেই। ওর জায়গা কি কোনওদিন পূরণ হবে?”
ঘটনাটি ঘটে যখন সাহিল বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সামনাসামনি ধাক্কা লাগে একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও এসইউভি-র সঙ্গে। গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ছিল ১৭ বছরের এক কিশোর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সাহিলের। পরে অভিযুক্ত কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হলেও, দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার সময়সীমায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে একটি ভিডিও ঘিরে। অভিযোগ, গাড়ির সামনের আসনে বসে অভিযুক্তের বোন একটি ভিডিও করছিলেন। অনেকে মনে করছেন, ‘রিল’ তৈরির সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। যদিও অভিযুক্তের বাবা দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ে রিল বানাচ্ছিলেন না, কেবল ছবি ও ভিডিও তুলছিলেন।
ইননা সিঙ্গল মাদার। ২০১৮ সালে সাহিলের বাবা মারা যান। তাঁর কথায়, স্বামী জীবিত থাকাকালেও সংসারের দায়ভার তিনি নেননি। নিজের পরিশ্রমে ছেলেকে বড় করে তোলাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সাহিল আমেরিকায় স্নাতকোত্তর পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই স্বপ্নও ভেঙে গিয়েছে এক মুহূর্তে। এখন তিনি জানিয়েছেন, নিজের রিয়েল এস্টেট ব্যবসা গুটিয়ে আইনি লড়াইয়ে মন দেবেন।
অভিযুক্ত কিশোরের বাবা একটি বাণিজ্যিক গাড়ির ব্যবসা করেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি শহরে ছিলেন না; স্ত্রীর ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি ফিরে আসেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি জানতেন না তাঁর ছেলে গাড়ি চালাচ্ছিল। ছেলের কোনও ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিল না। তিনি বলেন, “আমিও একজন বাবা। এটা একটা ভুল। আমরা অত্যন্ত মর্মাহত।”
তাঁর দাবি, ছেলে মেধাবী ছাত্র - স্কুল থেকে বহু পুরস্কার পেয়েছে, উপস্থিতি প্রায় শতভাগ, নম্বরও ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে। পুলিশ নথি যাচাই করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার পর মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে তার ছেলে।
কিন্তু ইননা মাকানের কাছে এই যুক্তি বা সাফল্যের খতিয়ান কোনও সান্ত্বনা নয়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, একটি ‘ভুল’ তাঁর সমগ্র পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য - ন্যায়বিচার।