সুরেশ পুলিশের হাতে একটি ফোন রেকর্ডিংও তুলে দিয়েছেন, যেখানে ভারতীকে তাঁর সন্তানকে খুনের কথা স্বীকার করতে শোনা যায়। বর্তমানে ধৃত দুই মহিলাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

শিশুখুনে গ্রেফতার মা
শেষ আপডেট: 9 November 2025 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছ'মাসের শিশুর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, তাকে খুন করা হয়েছে, সন্তানহারা বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে মা-কে গ্রেফতার করল পুলিশ (Tamil Nadu newborn murder case)। তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি জেলার এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কয়েক বছর আগে সুরেশ ও ভারতীর বিয়ে হয়। দম্পতির এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ছ'মাস আগেই ছেলের জন্ম দেন তরুণী। সবকিছু ঠিকই চলছিল। কিন্তু গত ৫ নভেম্বর তাঁদের ছোট ছেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভারতী দাবি করেছিলেন, শিশুটি বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় অজ্ঞান হয়ে যায়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা করা যায়নি। চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন (six-month-old baby killed Tamil Nadu)। ঘটনাটিকে তখন ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে ধরে নেওয়া হয় এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটিকে পারিবারিক কৃষিজমিতে কবর দেওয়া হয়।
তবে কয়েক দিন পর সুরেশ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন যে, তাঁর ছেলের মৃত্যুর কারণ অসুস্থতা নয়। তাঁর দাবি, ভারতীর ফোনে কিছু ছবি, মেসেজ ও ভিডিও দেখে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে সুমিত্রা নামে এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে ছিলেন। সুরেশের দাবি, এই সম্পর্ক নিয়ে চাপের কারণেই শিশুটিকে খুন করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ শিশুটির দেহ কবর থেকে তুলে এনে পুনরায় ময়নাতদন্ত করে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, শিশুটির মৃত্যু শ্বাসরোধ করে খুনের ফলেই হয়েছে। এরপরই ভারতী ও সুমিত্রাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশি জেরায় ভারতী স্বীকার করেন, তিনি তাঁর স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে থাকতে চাইছিলেন না। স্বামীও নাকি তাঁর ঠিক মতো খেয়াল রাখতেন না বা কোনও আর্থিক সাহায্যও দিতেন না। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতী ও সুমিত্রা প্রায় তিন বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন। কিন্তু সন্তানের জন্মের পর তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে, আর সেই মানসিক চাপ থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুরেশ পুলিশের হাতে একটি ফোন রেকর্ডিংও তুলে দিয়েছেন, যেখানে ভারতীকে তাঁর সন্তানকে খুনের কথা স্বীকার করতে শোনা যায়। বর্তমানে ধৃত দুই মহিলাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।