আদালত বলেছে, এই রায় সংবিধানের মূল ভাবনা- সমতা, স্বাধীনতা আর মর্যাদাকে আরও মজবুত করে। বিচারপতি জানান, এই নির্দেশ শুধু ওই দম্পতির সুরক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে।
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 November 2025 23:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভালবাসা হোক বা বিয়ে- জীবনের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একেবারেই ব্যক্তিগত। কারও এতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই, সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। আদালত বলেছে, নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গোপনীয়তার অধিকারেরই অংশ।
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব নারুলা (Justice Sanjeev Narula) এই মন্তব্য করেন এক আন্তঃজাতি দম্পতির আবেদনের শুনানিতে। ওই যুগল জানিয়েছিল, তারা ১১ বছর ধরে সম্পর্কে আছে এবং এখন বিয়ে করতে চাইছে। কিন্তু তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবার। তাই এই পরিস্থিতিতে ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ে তারা শেষমেশ পুলিশি নিরাপত্তার আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের আইনজীবী আদালতে জানান, ওই যুগলকে আগেই এক কনস্টেবলের ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে তাঁরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিচ্ছে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত হুমকির পরিস্থিতি যাচাই করে (থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ওই যুগলের বাড়ির এলাকায় নিয়মিত টহলদারি চালানো, ডায়েরিতে সব ঘটনার নথি রাখা এবং কোনও হুমকির খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে আবেদনকারীদের সুরক্ষা দেওয়া।
বিচারপতি নারুলা এই মামলার রায়ে বলেন, ভারতে এখনও জাতিভেদের প্রভাব গভীরভাবে রয়ে গেছে। তবে আন্তঃজাতি বিয়ে (Inter-caste marriage case) শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, সমাজে ঐক্য ও সমতা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরইসঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ (Delhi HC judgment) উদ্ধৃত করে বলেন, “এ ধরনের বিয়ে শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, দেশের একতা ও উন্নতির জন্যও জরুরি। তাই এমন সম্পর্ককে পরিবার বা সমাজের বাধা বা অযথা হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দিতে হবে।”
আদালত বলেছে, এই রায় সংবিধানের মূল ভাবনা- সমতা, স্বাধীনতা আর মর্যাদাকে আরও মজবুত করে। বিচারপতি জানান, এই নির্দেশ শুধু ওই দম্পতির সুরক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ আদৌ সত্যি কি না, সে বিষয়ে আদালত কিছু বলেনি।