ভাইরাল কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কুখ্যাত সিরিয়াল আসামি উমেশ রেড্ডি জেলের ভিতরে বসে একসঙ্গে দুটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি কীপ্যাড মোবাইল ব্যবহার করছে।
.jpg.webp)
বেঙ্গালুরুর জেলের ভাইরাল ভিডিও
শেষ আপডেট: 9 November 2025 00:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখে-মুখে অপরাধবোধের চিহ্নটুকু নেই! কেউ মোবাইল হাতে, কেউ টিভি দেখছে, কেউ কেউ আবার হাসি-আড্ডায় মেতে রয়েছে- বেঙ্গালুরুর জেলের (Bengaluru Parappana Agrahara jail) ভিতরে এভাবেই কার্যত বিলাসিতায় দিন কাটছে ধর্ষক, সিরিয়াল কিলার ও দাগি অপরাধীদের। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ভাইরাল কয়েকটি ভিডিওতে (Bengaluru Jail Viral Video) দেখা যাচ্ছে, কুখ্যাত সিরিয়াল ধর্ষক ও খুনি উমেশ রেড্ডি জেলের ভিতরে বসে একসঙ্গে দুটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি কীপ্যাড মোবাইল ব্যবহার করছে। এমনকি তার ব্যারাকে একটি টেলিভিশনও দেখা গেছে।
Terror suspects, smugglers, and rapists getting royal treatment in Bengaluru jail..... What kind of justice system is this?
Once again, shocking visuals have emerged from Parappana Agrahara Central Jail in Bengaluru, raising serious questions about the state of our prison… pic.twitter.com/5D4PfA73Gz— Karnataka Portfolio (@karnatakaportf) November 8, 2025
উমেশ রেড্ডির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তিনি ২০ জন মহিলাকে ধর্ষণ ও ১৮ জনকে খুন করেছে। আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, কিন্তু পরে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় পরিবর্তন করে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়, যাতে কোনও রকম ক্ষমা বা জামিনের সুযোগ থাকবে না। উমেশ দাবি করেছিল, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ, কিন্তু তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে প্রমাণিত হয় যে সে সম্পূর্ণ সুস্থ।
আরও একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, সোনা চোরাচালান মামলায় মূল অভিযুক্ত তরুণ রাজু জেলের ভিতরেই মোবাইল ব্যবহার করছেন এবং রান্না করছেন। তিনি 'রানিয়া রাও গোল্ড স্মাগলিং কেস'-এর সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। এই কাণ্ডে অভিযুক্ত ছিলেন রনিয়া রাও- এক প্রাক্তন আইপিএস অফিসারের মেয়ে। তরুণ রাজুকে ধরা হয় যখন তিনি জেনিভায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
এই সব ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এত নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে বন্দিদের হাতে একাধিক মোবাইল, টিভি ও রান্নার সরঞ্জাম পৌঁছে গেল? যদিও বেশ কিছু সূত্রের দাবি, জেলের কর্মীরা সব জেনেও চুপ থাকে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। হস্তক্ষেপ করেছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (Karnataka CM Siddaramaiah)। তিনি জানিয়েছেন, “পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। যাঁরা এই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "জেলের ভেতরে কীভাবে মোবাইল ফোন ও টিভির মতো জিনিস ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট জেলকর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এক সময় কুখ্যাত অপরাধীদের বন্দি রাখতে এই জেলের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশংসিত ছিল, সেখানেই এখন বন্দিরা বিলাসে মত্ত- এই চিত্রই ইতিমধ্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।