আমতার পূর্ব গাজিপুরের বাসিন্দা বিদ্যুৎ বেরা ভাইফোঁটার সময় বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 November 2025 20:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ন'মাস আগে কাজের জন্য মধ্যপ্রদেশে গিয়েছিলেন হাওড়ার আমতার পরিযায়ী শ্রমিক বিদ্যুৎ বেরা ওরফে ঝন্টু। এরপরই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর ওই শ্রমিকের নিথর দেহ ফিরল পরিবারের কাছে। তবে যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছে ছত্তীসগড়ে (Bengal migrant worker death), এই নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বাংলা বলার জন্যই তাঁকে খুন করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আমতার পূর্ব গাজিপুরের বাসিন্দা বিদ্যুৎ বেরা ভাইফোঁটার সময় বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাঁরা জানতে পারেন, ৩১ অক্টোবর ছত্তীসগড়ের এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে বিদ্যুতের দেহ (Bengal migrant worker death)। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মাথা, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্নের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, দেহ উদ্ধারের পর যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই সেটি স্থানীয়ভাবে কবর দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সহায়তায় ফের মাটি খুঁড়ে দেহটি আনা হয় পশ্চিমবঙ্গে। বিদ্যুতের পরিবারের দাবি, "বাংলায় কথা বলার জন্য ওকে প্রায়ই কটূ কথা শুনতে হত, অপমান করা হত।"
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার বেড়েই চলেছে। বিদ্যুতের মতো আরও অনেক পরিযায়ী আজ ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করছেন।”
শনিবার বিকেলে বিদ্যুতের দেহ পৌঁছয় তাঁর গ্রামে। দেহ আসতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বাঙালির উপর এই 'নৃশংস হামলার' প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি মিছিল করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্মল মাজিও।
জীবিকার টানে প্রতিবছর বাংলার হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক পাড়ি দেন দেশের নানা প্রান্তে। কেউ মধ্যপ্রদেশে, কেউ গুজরাতে, কেউ আবার দক্ষিণ ভারতে। অচেনা রাজ্যে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেন তাঁরা। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল। বাংলা ভাষাকে বঞ্চনার অভিযোগ এনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পথেও নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবু কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মৃত্যুর খবর ফের তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।