নতুন এই আইনের হাত ধরে ভিখারিমুক্ত মিজোরামের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে সরকার। তবে কার্যক্ষেত্রে কতটা সফল হয়, তা বলবে সময়ই।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 August 2025 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে ভিক্ষাবৃত্তি রুখতে তৎপর মিজোরাম সরকার (Mizoram Assembly)। বুধবার বিধানসভায় ‘মিজোরাম প্রহিবিশন অব বেগারি বিল, ২০২৫’ (Mizoram Prohibition of Beggary Bill, 2025) পাস করল লালদুহোমা সরকার। তবে শুধু ভিক্ষাবৃত্তি আটকানোই নয়, ভিখারিদের ফিরিয়ে আনা হবে মূলস্রোতে— এরকম প্রতিশ্রুতিও দিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী লালরিনপুই (Minister Lalrinpuii)। তাঁর দাবি, এই আইনের লক্ষ্য শাস্তি নয়, বরং সহায়তা ও পুনর্বাসন। অর্থাৎ ভিক্ষুকদের জন্য টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরি করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, মিজোরামে ভিক্ষুক সংখ্যা তুলনামূলক কম। এর কারণ রাজ্যের সামাজিক কাঠামো, গির্জার ভূমিকা, এনজিওদের উদ্যোগ এবং সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প। তবে আশঙ্কা, সাইরাং-সিহহমুই রেলপথ চালু হলে বাইরে থেকে ভিক্ষুকদের ভিড় বাড়তে পারে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এই রেললাইন উদ্বোধন করবেন। তার আগেই আইনি কাঠামো তৈরি করে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বিলে বলা হয়েছে, রাজ্য স্তরে একটি ‘রিলিফ বোর্ড’ (Relief Board) গঠন করা হবে। বোর্ড ভিক্ষুকদের জন্য অস্থায়ী গ্রহণকেন্দ্র তৈরি করবে। ধরা পড়া ভিক্ষুকদের প্রথমে সেখানে রাখা হবে, পরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের নিজ নিজ বাড়ি বা রাজ্যে পাঠানো হবে। সমাজকল্যাণ দফতরের এক সমীক্ষা জানাচ্ছে, আইজল (Aizawl) শহরেই বর্তমানে ৩০ জনের বেশি ভিক্ষুক (Beggar) আছেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই বাইরের।
তবে বিরোধী পক্ষের আপত্তিও উঠেছে। এমএনএফ নেতা লালচন্দমা রালতে (Lalchhandama Ralte) অভিযোগ করেছেন, এই বিল খ্রিস্টান ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং মিজোরামের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাঁর পরামর্শ—ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে চাইলে স্থানীয় সমাজ ও গির্জার অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা (Chief Minister Lalduhoma) বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং গির্জা, এনজিও (NGO) ও সমাজের যৌথ উদ্যোগে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করা। ১৩ জন বিধায়ক দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে বিলটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
ফলে, নতুন এই আইনের হাত ধরে ভিখারিমুক্ত মিজোরামের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে সরকার। তবে কার্যক্ষেত্রে কতটা সফল হয়, তা বলবে সময়ই।
বস্তুত, ভিক্ষাবৃত্তি কমাতে ও নিরুৎসাহিত করতে মহারাষ্ট্র সরকার চলতি বছরের এপ্রিলে মন্ত্রিসভায় ঘোষণা করে, সরকারের অধীনে চলা আলমস হাউসগুলিতে থাকা ভিক্ষুকদের দৈনিক ভাতা বাড়ানো হচ্ছে। আগে যেখানে মাসিক ভাতা ছিল মাত্র ৫ টাকা, সেখানে এখন থেকে প্রতিদিন ৪০ টাকা করে দেওয়া হবে।
মহারাষ্ট্রে ভিক্ষাবৃত্তি রোধে ১৯৬৪ সালে প্রোহিবিশন অব বেগিং অ্যাক্ট পাশ হয়েছিল। তার আওতায় মোট ১৪টি আলমস হাউস বা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি হয়, যেখানে এতদিনে ৪,১২৭ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসিত করা হয়।