প্রয়াগরাজে ট্রেন থেকে উদ্ধার হল নওয়াদার এক নাবালিকা। তদন্তে উঠে এল অনলাইন হানিট্র্যাপ ও পাকিস্তান যোগ। চাইল্ডলাইন ও সিডব্লিউসি-র কাছে জমা হয়েছে বিস্তারিত রিপোর্ট।

ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
শেষ আপডেট: 7 September 2025 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াগরাজের ট্রেন থেকে উদ্ধার হওয়া এক নাবালিকার সঙ্গে পাকিস্তান-যোগ। ৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে রেলওয়ে প্রটেকশন ফোর্স (RPF) হেল্পলাইনের মাধ্যমে খবর পায়, বিহারের নওয়াদা জেলার এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়েছে। পরে তাকে মহাবোধি এক্সপ্রেস থেকে উদ্ধার করা হয়। সূত্রের খবর, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অনলাইন হানিট্র্যাপ এবং পাকিস্তান যোগ।
মাহাবোধি এক্সপ্রেস গয়া থেকে দিল্লির পথে প্রয়াগরাজ পৌঁছলে আরপিএফ কর্তারা তল্লাশি শুরু করেন। ট্রেনে আংশিক মুখ ঢাকা অবস্থায় এক কিশোরীকে দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরিবারের তরফে আগেই নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের হয়েছিল বিহারের নওয়াদা জেলার পাকরিবারওয়ান থানায়। সেখান থেকে পাওয়া ছবির সঙ্গে মেলাতেই মেয়েটির পরিচয় জানা যায়। পরে তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় চাইল্ডলাইন প্রয়াগরাজের হাতে তুলে দেন আধিকারিকরা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরেই বাড়ি ছেড়েছিল নাবালিকা। মোবাইল ব্যবহারে পরিবারের নিয়মকানুনেই সে বিরক্ত হয়ে ওঠে। ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় এবং সেই বন্ধুত্বই তাকে দিল্লি পৌঁছনোর পরিকল্পনা করতে উৎসাহিত করে।
তবে মেয়েটির ফোন খতিয়ে দেখতেই তদন্তকারীরা চমকে ওঠেন। ফোনে একাধিক পাকিস্তানি নম্বর পাওয়া যায়। আরও জানা যায়, ইনস্টাগ্রামে এক পাঞ্জাবি কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই পাকিস্তানের এক যুবকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল সে। ওই যুবকই মূলত তার দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, পাকিস্তানি যুবকটি পাঞ্জাবের এক পরিচিতির মাধ্যমে ওই নাবালিকার ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছিল। পাঞ্জাব থেকে পরিচিত কিশোরীই পেটিএমের মাধ্যমে টিকিট কাটার টাকা পাঠায়। দিল্লি পৌঁছনোর পর তাকে পাঞ্জাব নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যদিও শেষ গন্তব্য মেয়েটিকে জানানো হয়নি।
যখন প্রয়াগরাজে আরপিএফ ট্রেনে চড়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল, তখনও পাকিস্তানি যুবকের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিল ওই নাবালিকা। পুলিশের উপস্থিতির কথা শুনে ওই যুবক হঠাৎ ফোন কেটে দেয় এবং পরে ইনস্টাগ্রামে তাকে ব্লক করে দেয়।
চাইল্ডলাইনের তরফে নাবালিকার ফোন রেকর্ড এবং পাকিস্তানি নম্বরের তথ্য-সহ একটি বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)-তে জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে এটি শুধুই অনলাইন প্রলোভনের ঘটনা, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় কোনও জাল।