বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে, কেরল পর্যটন দফতরের প্রচার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জ্যোতি-সহ মোট ৪১ জন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে রাজ্যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।

ইউটিউবার জ্যোতি (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 7 July 2025 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানে এদেশের খবর দেওয়া ও পাক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগসাজসের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ট্রাভেল ভ্লগার জ্যোতি মালহোত্রাকে। হেফাজতে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ও তদন্ত শুরু করেছে হরিয়ানা পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে দেশে রীতিমতো তাঁর কর্মকাণ্ডে হইচই পড়েছে। জানা যাচ্ছে, এই ট্রাভেল ভ্লগারকে রাজ্যের পর্যটন প্রোমোট করার জন্য কিছুদিন আগেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কেরলে। সরকারি তত্ত্বাবধানে রেখে তাঁকে ঘোরানো বিভিন্ন জায়গায়।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে, কেরল পর্যটন দফতরের প্রচার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জ্যোতি-সহ মোট ৪১ জন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে রাজ্যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তাঁদের ঘোরার যাবতীয় খরচ, থাকা, খাওয়া বহন করে সরকারই। এমনকি ভিডিও তৈরির জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল একটি প্রাইভেট এজেন্সি।
কী বলছে পর্যটন দফতর?
এই নিয়ে আপাতত চাপের মুখে পড়েছেন কেরলের পর্যটনমন্ত্রী পি এ মহম্মদ রিয়াস। তিনি দাবি করেছেন, তখন কিছুই জানতেন না। জ্যোতির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠার কথা জানলে নিশ্চয়ই একাজ হত না। আজকের পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের কোনও সম্পর্ক নেই।
রিয়াস বলেন, 'ইনফ্লুয়েন্সার নির্বাচন সরকার বা মন্ত্রীদের মাধ্যমে হয় না, একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়। ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকব।'
এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা টুইট করে বলেন, 'আরটিআই বলছে পাকিস্তানি গুপ্তচর জ্যোতি মালহোত্রা কেরলে এসেছিলেন রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে। তাঁকে যেন রেড কার্পেট সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। ভারত মাতার ছবি বন্ধ, আর পাকিস্তানি গুপ্তচরের জন্য খুলে রাখা হয় দরজা! পর্যটনমন্ত্রী রিয়াসকে বরখাস্ত করে তদন্ত করা উচিত।'
কেরলে বিরোধী দল আইইউএমএলও (IUML) এনিয়ে মুখ খুলেছে। পি কে ফিরোজ বলেন, 'যদি তাঁর নাম হত জ্যোতি মেহবুব বা জ্যোতি মাহিন, তা হলে গোটা মুসলিম সম্প্রদায়ের দিকে আঙুল উঠত। আজ কেন সরকারের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা? মন্ত্রী বলছেন, তোমরা যা খুশি লেখো। এটাই কি একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর ভাষা হওয়া উচিত?'
কোথায় কোথায় ঘুরেছিলেন জ্যোতি?
জানা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২১ মে-র মধ্যে পর্যটন প্রচারের উদ্দেশ্যে কুন্নুর, কোঝিকোড়, কোচি, আলাপ্পুঝা ও মুন্নার ঘুরে দেখেন তিনি।
একজন ট্রাভেল ভ্লগারকে সরকার আমন্ত্রণ জানাবে, তাতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড, পরিচিতি, আগের কাজকর্ম কিছুই কি খতিয়ে দেখা হয়নি? এই নিয়েই মূলত উঠছে প্রশ্ন।