দুই সংস্থাই স্পষ্ট জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে ফয়সালের ভারতে প্রবেশের কোনও প্রমাণ তাদের হাতে নেই এবং এ সংক্রান্ত কোনও গ্রেফতারও হয়নি।

ওসমান হাদি
শেষ আপডেট: 28 December 2025 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির (Osman Hadi) হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান এবং তাঁর সহযোগীরা নাকি ভারতে ঢুকে মেঘালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশের এমন দাবিকে সরাসরি খারিজ করল মেঘালয় পুলিশ (Meghalaya Police) ও বিএসএফ (BSF)।
দুই সংস্থাই স্পষ্ট জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে ফয়সালের ভারতে প্রবেশের কোনও প্রমাণ তাদের হাতে নেই এবং এ সংক্রান্ত কোনও গ্রেফতারও হয়নি। রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এনএন মহম্মদ নজরুল ইসলামের বক্তব্য উদ্ধৃত করে একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, হাদি হত্যার নেপথ্যচক্রান্তকারী ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে মেঘালয়ের গারো পাহাড় এলাকায় আত্মগোপন করেছেন।
সেই সঙ্গে ভারতে তাঁদের সাহায্য করেছেন পূর্তি নামে এক ব্যক্তি ও সামি নামে এক ট্যাক্সিচালক— এমন অভিযোগও উঠে আসে। তবে এই সমস্ত দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মেঘালয় পুলিশ। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক জানান, বাংলাদেশ পুলিশের তরফে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। পাশাপাশি, যাঁদের নাম সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, তাঁদের কাউকেই গারো পাহাড় এলাকায় শনাক্ত করা যায়নি। কোনও গ্রেফতারও হয়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সীমান্ত পেরোনোর পর সন্দেহভাজনেরা প্রথমে পূর্তির সঙ্গে দেখা করেন এবং পরে সামি নামে এক ট্যাক্সিচালক তাঁদের তুরা শহরে পৌঁছে দেন। কিন্তু মেঘালয় পুলিশের দাবি, পূর্তি বা সামি—এমন নামের কোনও ব্যক্তিকে রাজ্যের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশের মতে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাচাই না করেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
মেঘালয় পুলিশের বক্তব্যকে সমর্থন করেছে বিএসএফও। বিএসএফের মেঘালয় ফ্রন্টিয়ারের প্রধান ওপি উপাধ্যায় জানান, হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে সন্দেহভাজনদের ভারতে ঢোকার কোনও প্রমাণ নেই। বিএসএফ এ ধরনের কোনও অনুপ্রবেশের বিষয়ে অবগত নয় বলেও তিনি জানান। তাঁর কথায়, এই ধরনের দাবি বিভ্রান্তিকর।
যদিও দুই সংস্থাই জানিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার দরজা খোলা রাখা হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশের তরুণ নেতা ওসমান হাদির হত্যার বিচার সম্পন্ন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই। রবিবার এমনটাই দাবি করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। হাদি হত্যার তদন্ত নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে ইউনূসের সরকার। প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকাও।