পরিবারের অমতে বিয়ে করায় প্রকাশ্যে যুবককে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের অভিযোগ অন্ধ্রপ্রদেশের এলুরুতে। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য, নবদম্পতিকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
.jpeg.webp)
সাই দুর্গা, সাই চাঁদ
শেষ আপডেট: 1 January 2026 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্ধ্রপ্রদেশে পরিবারের অমতে বিয়ে করায় প্রকাশ্য রাস্তায় টেনে হিঁচড়ে মারধর করা হল এক যুবককে। ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে তথাকথিত সামাজিক সম্মান, পারিবারিক ‘ইজ্জত’ আর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে।
ঘটনাটি অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) এলুরু (Eluru) জেলার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিত যুবকের নাম সাই চাঁদ (Sai Chand)। তাঁর স্ত্রী সাই দুর্গা (Sai Durga)। দীর্ঘ আট বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন দু’জনে। কিন্তু সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে বিয়ের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি দুর্গার পরিবার। অভিযোগ, পাত্রের চাকরি না থাকাই ছিল আপত্তির মূল কারণ।
সাই দুর্গা ডাক বিভাগের (Postal Department) কর্মী হলেও, সাই চাঁদ কর্মহীন। এই কারণেই পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। তবু সামাজিক চাপ উপেক্ষা করে কয়েক দিন আগে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে বিয়ে করেন ওই যুগল। বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন সাই চাঁদের পরিবার। তবে দুর্গার পরিবারের কেউই সেখানে যাননি।
সব ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু শান্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিয়ের পরই সাই দুর্গার পরিবারের কয়েক জন সদস্য সাই চাঁদের খোঁজে নামে বলে অভিযোগ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রাস্তায় চাঁদের চুল ধরে টেনে আনা হচ্ছে। এরপর তাঁকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে চড়-ঘুষি মারা হচ্ছে। কেউ বাধা দেয়নি, বরং চারপাশে দাঁড়িয়ে অনেকে সেই দৃশ্য দেখেছে। প্রকাশ্য অপমান ও নিগ্রহের সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
ঘটনার পর এলুরু (Eluru) জেলার পুলিশ সুপার শিব প্রতাপ কিশোর (Shiva Pratap Kishore) স্পষ্ট জানিয়েছেন, “সাই দুর্গার বাবা-মা এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। সম্ভবত মেয়েটি ডাক বিভাগে কাজ করলেও, সাই চাঁদের চাকরি না থাকাই প্রধান কারণ। তবে কোনও অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।” তাঁর কথায়, এই ঘটনায় অপহরণ (Kidnapping) এবং মারধরের (Assault) মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি নবদম্পতির নিরাপত্তার দায়িত্বও নিয়েছে প্রশাসন। বর্তমানে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশের স্পষ্ট বার্তা, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিবাদ মেটাতে কেউই আইনের বাইরে যেতে পারে না। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, কবে সত্যিই নিরাপদ হবে নিজের পছন্দে বাঁচার অধিকার?