ঘটনার পর পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব পরে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন ইজেন্সির (NIA)-র হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, সেই কারণে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

মণিপুরে আবারও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
শেষ আপডেট: 12 March 2026 19:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংঘর্ষে জর্জরিত মণিপুরে আবারও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার নাগা সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংঘর্ষের (Manipur Kuki Naga clash) পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া দুই কুকি যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার (Manipur missing Kuki men found dead) হয়েছে বৃহস্পতিবার। এই ঘটনা নতুন করে রাজ্যে অশান্তির আগুন জ্বালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের একাংশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত দুই কুকি যুবকের নাম অথিপা থেংগিন বাইতে এবং সোপি থাংবোইমাং। তাঁদের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছে উখরুল জেলার থাওয়াই কুকি গ্রামের কাছ থেকে।
ঘটনার পর পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব পরে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন ইজেন্সির (NIA)-র হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, সেই কারণে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। অভিযোগ, ওই দিন থাওয়াই কুকি গ্রামে কুকি ও নাগা গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, উখরুল জেলার লিতান থানার আওতাধীন উখরুল–ইম্ফল সড়কে কুকি স্বেচ্ছাসেবকরা ২০ জনকে আটক (Manipur Hostage) করে। জানা যায়, দুই নিখোঁজ কুকি যুবককে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়ে তাঁদের মুক্তির জন্যই এই পদক্ষেপ নেয় কুকি স্বেচ্ছাসেবীরা।
আটকদের মুক্তি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে। এই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে আবেদন জানান মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং-ও। অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয় যে নিখোঁজ দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। সেই আশ্বাসের পরেই আটকদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংঘর্ষের নেপথ্যে কী?
সরকারি সূত্রের দাবি, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল যখন একদল নাগা গ্রামবাসী খবর পান যে কিছু কুকি চাষি নাকি পোস্ত চাষে জড়িত। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তারা থাওয়াই কুকি গ্রামে গিয়ে তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখনই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নাগা পক্ষেও সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা উপস্থিত ছিল। তবে তারা কোনও জঙ্গি সংগঠনের সদস্য, না কি সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবী - তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সংঘর্ষের সময় এক কুকি ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন এবং দুইজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরই প্রতিক্রিয়ায় কুকি স্বেচ্ছাসেবীরা পরে অন্তত ২০ জন নাগাকে আটক করে।
কুকি সংগঠনের অভিযোগ
মণিপুরে কুকি জনজাতির স্বার্থ রক্ষাকারী সংগঠন কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি (CoTU) অভিযোগ করেছে, কিছু সশস্ত্র দুষ্কৃতী, যাদের NSCN-IM-এর সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, থাওয়াই কুকি গ্রামে বিনা উস্কানিতে গুলি চালায়।
এই সংগঠনটি একটি পৃথক নাগা পতাকা ও সংবিধানের দাবিতে আন্দোলন করে।
CoTU-র দাবি, ধানক্ষেতে কাজ করা কৃষকদের রক্ষা করতে গ্রামবাসীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (CAPF) এবং ৮ বিহার রেজিমেন্ট (8 Bihar Regiment) ঘটনাস্থলে পৌঁছলে গুলিবর্ষণ থামে।
CoTU-র মুখপাত্র লুন কিংপিন দ্য প্রিন্ট-কে জানান, নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছনোর পরই গুলি চলা বন্ধ হয়। কিন্তু সেই সময় তাঁদের দুই স্বেচ্ছাসেবীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাই তাঁদের মুক্তির দাবিতে উখরুল-ইম্ফল সড়কে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল।
নাগা সংগঠনের পাল্টা অভিযোগ
অন্যদিকে নাগা সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংগঠন তাংখুল নাগা লং (Tangkhul Naga Long) দাবি করেছে, এটি আসলে কুকি জঙ্গিদের পরিকল্পিত হামলা। তাদের অভিযোগ, ১১ মার্চ ভোর থেকেই আধুনিক অস্ত্র নিয়ে কুকি জঙ্গিরা থাওয়াই কুকি এলাকার আশপাশের নাগা গ্রামগুলিতে হামলা চালায় এবং কোনও উস্কানি ছাড়াই চাষিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এই ঘটনার পর সংগঠনটি আটকদের উদ্ধারের জন্য দুই ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেয়। না হলে পরিস্থিতির জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে দায়ী করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পুলিশের বক্তব্য
একজন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক দ্য প্রিন্ট-কে জানিয়েছেন, ঘটনাটি মূলত কুকি ও নাগাদের মধ্যে সংঘর্ষের ফল। তিনি NSCN-IM-এর জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুলিশের দাবি, নিখোঁজ দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং প্রশাসনের উদ্যোগেই আটক ২০ জনকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নিহত দুই কুকি যুবককে সম্ভবত অনেক আগেই হত্যা করা হয়েছিল। তাঁদের দেহ পরে উদ্ধার হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ বলে জানিয়েছে প্রশাসন। দুই কুকি যুবকের মৃত্যুর প্রসঙ্গে CoTU মুখপাত্র লুন কিংপিন বলেন, “পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এই মুহূর্তে বলার মতো কোনও ভাষা আমার নেই।”