প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উখরুল জেলার লিতান (লিতাং সারেখং) এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা চরমে ওঠে। অভিযোগ, সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা অন্তত ন’টি থেকে দশটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কোথাও কোথাও গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 February 2026 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরে নতুন করে অশান্তি (Manipur Violence)। রাজ্যের পাহাড়ি জেলা উখরুলে (Ukhrul Clash) ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে কুকি-জো (Kuki-Zos) ও নাগা (Naga) - দুই গোষ্ঠী। নতুন করে সংঘর্ষ মাথাচাড়া দেওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। পাশাপাশি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্ফু জারি (Curfew In Manipur) করা হয়েছে এবং পাহাড়ি এলাকাজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উখরুল জেলার লিতান (লিতাং সারেখং) এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা চরমে ওঠে। অভিযোগ, সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা অন্তত ন’টি থেকে দশটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কোথাও কোথাও গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মূলত গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করতেই এই গুলিচালনা করা হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
এই সংঘর্ষের সূত্রপাত গত শনিবার রাতে। অভিযোগ, একদল কুকি-জো (Kuki-Zos) যুবক এক তাংখুল নাগা (Naga) ব্যক্তির উপর হামলা চালায়। রবিবার নাগা গ্রামবাসীরা কুকি-জো অধ্যুষিত একটি গ্রামের প্রধানের কাছে অভিযুক্তদের সামনে আনার দাবি জানাতে গেলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। সেই থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সোমবার ও মঙ্গলবার তা সহিংস রূপ নেয়।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, রবিবার ও সোমবার মিলিয়ে প্রায় ৩০টি বাড়ি পুড়েছে। সংঘর্ষে কয়েক জন আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এক জন পুলিশকর্মীও রয়েছেন। আহতদের ইম্ফলের রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় বহু পরিবার নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন।
উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’। তবে প্রশাসনের দাবি, এই সব ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা। মূল সড়কগুলিতে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভিতরের গ্রামগুলিতে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী ইউম্নাম খেমচন্দ সিং দুই সম্প্রদায়ের কাছেই শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি, উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি ডিখোর নেতৃত্বে বিধায়কদের একটি দল লিতান এলাকা পরিদর্শন করে। তাঁরা দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানান।
সংঘর্ষের প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। উখরুল ও ইম্ফল উপত্যকার মধ্যে যাতায়াতকারী গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। অভিযোগ, জাতীয় সড়কে চলাচল সীমিত থাকায় এই রাস্তিই ছিল প্রধান ভরসা, কিন্তু এখন সেটিও নিরাপদ নয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার ইম্ফল ও উখরুলের মধ্যে একটি হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু করা হয়েছে এবং বুধবার আরও দু’টি বিশেষ হেলিকপ্টার উড়ানের পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত পরিষেবার পাশাপাশি এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে।
এদিকে, প্রশাসনের দাবি - ভুয়ো খবর ও গুজব ছড়ানো রুখতেই ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের কাজ চলছে। দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংঘর্ষ ফের এক বার মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলের অস্থির বাস্তবতাকে সামনে এনে দিল।